July 1, 2026, 7:00 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে হত্যার হুমকি, ‘পোষ্যদের’ শিক্ষা দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ বাংলাদেশ সমর্থন করে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আমরা বলেছি সরকারি সুবিধা না নেওয়ার চেষ্টা করবো, তবে কেউ নিলে অপরাধ নয়:জামায়াত আমির রেজাল্ট খারাপ করলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার খাতাও চেক করতে পারবে: শিক্ষামন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ৫০০ কেজি আম উপহার পাঠালো বাংলাদেশ জামায়াতের ছায়া বাজেট আর পাস হওয়া বাজেট কাছাকাছিই: শফিকুর রহমান ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপারের মানুষের ছাত্রদলের ১৭ বছরের আন্দোলনের সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাই অভ্যুত্থানে: রিজভী বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী, সাশ্রয় ৫০ লাখ টাকা স্বাধীনতার বিরোধিতার দায়ে বিএনপির ক্ষমা চাওয়া উচিত: গোলাম পরওয়ার

পর্যটক হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র : জিতে নিচ্ছে অন্য দেশগুলো

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, October 9, 2025
  • 126 Time View
147

২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটকরা তাদের পাসপোর্ট দিয়ে যেনো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভোট দিচ্ছেন । ডলার শক্তিশালী, রাজনীতি বিভাজিত, আর বিকল্প গন্তব্য অনেক বেশি আকর্ষণীয়— এই তিন কারণেই বিশ্বভ্রমণকারীরা মার্কিন মাটির পরিবর্তে অন্য দেশ বেছে নিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাতে ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষতি হতে পারে।
বছরের শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, ২০২৫ সালে বিদেশি পর্যটকদের ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার ছুঁবে।
কিন্তু বছরের মধ্যভাগেই সেই পূর্বাভাস ভেঙে পড়ে। নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয় নেমে আসতে পারে ১৭০ বিলিয়ন ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটকরা যুক্তরাষ্ট্রে কম সময় থাকছেন, খরচ করছেন আরও সতর্কভাবে, আর এক ডলারে যত সুবিধা পাওয়া যায়— তা এখন অন্য দেশগুলোয় বেশি।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে কানাডায়।
২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে কানাডিয়ানদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। অনেকেই এবার নিজ দেশেই পর্যটন খরচ করেছেন— ফলে স্থানীয় হোটেল বুকিং পৌঁছেছে ২০১৯ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
কানাডা সরকার জাদুঘর, ঐতিহ্যবাহী স্থান ও জাতীয় উদ্যানের জন্য একীভূত ট্যুর ক্যাম্পেইন চালু করেছে— যা ব্যাপক সফল হয়েছে।
অন্যদিকে যারা দক্ষিণে সূর্যের খোঁজে বেরিয়েছেন, তারা এবার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে সরাসরি মেক্সিকো বা ক্যারিবীয় দ্বীপগুলোতে নেমেছেন।
সস্তা ফ্লাইট, অনুকূল বিনিময় হার ও অল-ইনক্লুসিভ প্যাকেজের কারণে মেক্সিকো, কোস্টারিকা ও ডোমিনিকান রিপাবলিক এখন পর্যটকদের নতুন প্রিয় গন্তব্য।
বড় বুকিং প্ল্যাটফর্মগুলো জানিয়েছে— ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবর্তে এখন অনেক ইউরোপীয় ও কানাডিয়ান পর্যটক বেছে নিচ্ছেন ক্যারিবীয় সৈকত রিসোর্ট।
পশ্চিম ইউরোপের পর্যটকরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের বদলে ছোট ইউরোপীয় ট্রিপ কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে সংক্ষিপ্ত অবকাশের দিকে ঝুঁকছেন।
এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভ্রমণকারীরাও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে আঞ্চলিক গন্তব্য, যেমন— জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে বেছে নিচ্ছেন।
পর্যটন বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রবণতা ‘নতুন ভ্রমণ করিডোর’ তৈরি করছে— যেখানে একসময় নিউইয়র্ক বা লস অ্যাঞ্জেলেসে ভ্রমণ করতেন যে পর্যটকরা, এখন তারা যাচ্ছেন প্যারিস, দুবাই বা টোকিওতে।
২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক আগমন ২০২৪ সালের তুলনায় কমেছে।
২০১৯ সালের (মহামারি-পূর্ব) মানদণ্ডের তুলনায় বছরের শেষে ঘাটতি থাকবে কয়েক মিলিয়ন পর্যটক।
অন্যদিকে স্পেন, সৌদি আরব ও তুরস্ক আগের চেয়ে অনেক বেশি আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমন রেকর্ড করছে।
পর্যটন গবেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববাজারে শেয়ার একসময় ছিল বড়, কিন্তু এখন তা ‘লো সিঙ্গেল ডিজিট’ পর্যায়ে নেমে এসেছে— অর্থাৎ সামগ্রিক পর্যটন বৃদ্ধি পেলেও মার্কিন অংশ ক্রমেই ছোট হচ্ছে।
বিশ্লেষণে তিনটি কারণ সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে—
১. মূল্য ও মুদ্রার প্রভাব: শক্তিশালী ডলার বিদেশি পর্যটকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
২. সহজতা ও ভাবমূর্তি: ভিসা জটিলতা, বিমানবন্দরের ঝামেলা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ভ্রমণ ইচ্ছা কমাচ্ছে।
৩. নতুন আকর্ষণ: মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকায় নতুন হোটেল, বিনোদন ও ইভেন্টের প্রসার বিশ্ব পর্যটন মানচিত্র বদলে দিচ্ছে।
কানাডা: দেশীয় পর্যটন প্রচারণায় হোটেল ও জাদুঘরে ভিড় বেড়েছে।
মেক্সিকো ও ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ: ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা থেকে পর্যটক টানছে অল-ইনক্লুসিভ রিসোর্ট ও বাড়তি ফ্লাইট সুবিধা।
দক্ষিণ ইউরোপ: স্পেন ও ইতালি আবারও শীর্ষে—সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সাশ্রয়ী রেলযাত্রা সুবিধার কারণে।
মধ্যপ্রাচ্য: নতুন পর্যটন শহর ও আন্তর্জাতিক ইভেন্টে আকর্ষণ বাড়ছে দুবাই ও দোহায়।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল: জাপান, কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় নতুন করে ভ্রমণ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যটক কমে যাওয়ায় হোটেল বুকিং হার, রেস্তোরাঁ ব্যবসা ও ট্যাক্স রাজস্ব— সবকিছুতেই প্রভাব পড়ছে।
অবস্থা ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রকে যা করতে হবে: ভিসা ও এয়ারপোর্ট অভিজ্ঞতা সহজ করা, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য কাঠামো ফিরিয়ে আনা, পর্যটন অবকাঠামো ও আকর্ষণীয় নতুন প্রজেক্টে বিনিয়োগ বাড়ানো। অন্যথায় ২০২৫ সাল বিশ্ব পর্যটনে এক নতুন বাস্তবতা প্রতিষ্ঠা করবে— যেখানে ভ্রমণ থামছে না, কিন্তু আমেরিকা ক্রমেই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com