October 23, 2026, 4:15 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
আমাদের মূল লক্ষ্য হলো আল্লাহর জান্নাতে যাওয়া: জামায়াত আমির ঠাকুরগাঁওকে মাগুরা বানাবেন না, নির্বাচন হোক ঈদ উৎসবের মতো: আব্দুল হালিম সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের পাশে প্রাইম ব্যাংক ও রানার মোটরস বিশ্বের মোট ঋণ ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার, শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ৪৫তম বিএনপি সরকার দুর্নীতি দমনে কতটা আগ্রহী এআইতে বিদ্যুৎ ও পানির লুকানো খরচ জবিতে সাইকোলজি প্রফেশনাল মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি করকাঠামো সংস্কারে নীতি ও প্রশাসন আলাদা করলেই কি রাজস্ব বাড়বে এনসিপিতে পাটওয়ারী-হাসনাত-সারজিস-আসিফের পদোন্নতি, বিলুপ্ত ৭ পদ এল ক্লাসিকোতে বাজিমাত করতে মরিনিওর বিশেষ পরিকল্পনা

বিদেশি ফল চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন লোহাগড়ার কৃষকরা

Reporter Name
  • Update Time : Friday, September 18, 2026
  • 110 Time View

প্রথাগত চাষাবাদ থেকে সরে এসে দেশের কৃষকরা এখন লাভজনক ও আধুনিক ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কৃষকরাও এর বাইরে নন, তারা নিজেদের জমিতে বিদেশি ফল চাষ করে এক নতুন বিপ্লব ঘটিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ধান ও পাটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এলাকার উদ্যান কৃষকরা এখন উচ্চমূল্যের এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ বিদেশি ফল উৎপাদনে মনোনিবেশ করেছেন। এই পরিবর্তন কেবল তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির পথই দেখাচ্ছে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন গতিশীলতা আনছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা অত্যন্ত যত্নের সাথে ড্রাগন, মাল্টা, লংগান, আনার, শরিফা এবং আঙুরের মতো লাভজনক ফল চাষ করছেন। অনুকূল আবহাওয়া এবং সঠিক পরিচর্যার কারণে এসব গাছের বৃদ্ধিও বেশ ভালো হচ্ছে। একসময়ের সাধারণ চাষিরা এখন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়া পেয়ে দক্ষ ফলচাষীতে পরিণত হয়েছেন। তারা নিজ উদ্যোগে বাগান তৈরি করে নিয়মিত সার, কীটনাশক ও সেচ দিয়ে গাছগুলোকে সুস্থ রাখছেন, যা দেখে এলাকার অন্য যুবকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদেশি এসব ফল বাজারে উচ্চ মূল্যে বিক্রি হওয়ায় তাদের লাভের পরিমাণ অনেক বেশি হয়। দেশীয় ফলের তুলনায় ভিনদেশি এসব ফলের চাহিদা বাজারে ব্যাপক থাকায় উৎপাদিত ফসল বিক্রি নিয়ে তাদের কোনো দুশ্চিন্তা করতে হয় না। পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকে এসব ফল কিনে নিয়ে যান, ফলে পরিবহন খরচ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের হয়রানি থেকেও তারা মুক্ত থাকেন। এই লাভজনক ব্যবসার সুবাদে কৃষকদের অনেকের পক্ষেই পরিবারের আর্থিক চাহিদা মিটিয়ে সঞ্চয় করা সম্ভব হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়ার মাটি ও আবহাওয়া এই ধরনের বিদেশি ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। স্থানীয় কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা যেকোনো রোগবালাই থেকে বাগান রক্ষা করতে পারেন। ফলচাষীদের এই সাফল্য দেখে এলাকার বেকার যুবকরাও চাকরির পেছনে না ছুটে ফল বাগান তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। কৃষকদের এই দূরদর্শী উদ্যোগ ভবিষ্যতে লোহাগড়া উপজেলাকে দেশের অন্যতম প্রধান ফল উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com