বহুল আলোচিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক আজ শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ১০ দফা পরিকল্পনাকে গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি।
তেহরানে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে মাজিদ তাখত-রাভানচি বলেন, ‘আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনাকে গ্রহণ করার বিষয়ে সম্মতি এসেছে। ইরান সব সময় কূটনীতি ও সংলাপকে স্বাগত জানায়।’
তবে এই সংলাপের উদ্দেশ্য নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কোনো সংলাপ চাই না যা ভুয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতারণার উদ্দেশ্যে করা হবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক আগ্রাসনের পথ তৈরি করবে।’
যুদ্ধবিরতির বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কোনো সাময়িক বিরতি চাই না যা আগ্রাসী পক্ষকে পুনরায় শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ করে দেবে। কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা ছাড়া এমন পরিস্থিতি আর মেনে নেয়া হবে না।’
ইরানি উপমন্ত্রী যখন এই ১০ দফা পরিকল্পনার ওপর জোর দিচ্ছেন, ঠিক তখনই এর বিরোধিতা করেছে ওয়াশিংটন। দুই দিন আগে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই ১০ দফা পরিকল্পনাকে ‘পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান’ করেছেন।
মাজিদ তাখত-রাভানচি তার বক্তব্যে ইরানের ওপর হামলার নিন্দা জানানো দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে কিছু ইউরোপীয় দেশের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের আধিপত্যবাদ ও যুদ্ধংদেহী নীতি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।’
আগামীকাল শনিবার ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পুরো বিশ্বের নজর এখন এই বৈঠকের ফলাফলের দিকে।
সূত্র- বিবিসি বাংলা