October 15, 2026, 8:02 am

আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পেয়েও থাকছে না কেউ

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, October 15, 2026
  • 17 Time View

জাতীয় ডেস্ক: বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারি উদ্যোগে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোতে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। উপজেলার ফুলবাড়ী, হাটশেরপুর, কাজলা, কর্নিবাড়ী, চালুয়াবাড়ি ও বোহাইল ইউনিয়নজুড়ে গৃহহীন মানুষের জন্য দুই হাজারের বেশি ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। বিগত বিভিন্ন অর্থবছরে এসব ঘর তৈরি করে উপকারভোগীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হলেও বর্তমানে সিংহভাগ ঘরেই কেউ বসবাস করছেন না। যোগাযোগব্যবস্থার চরম অবনতি, জলাবদ্ধতা, স্যানিটেশন ও সুপেয় পানির তীব্র সংকটসহ নানা অব্যবস্থাপনার কারণে এসব ঘর ফাঁকা পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের বসবাস না থাকায় সরকারি এই আবাসন প্রকল্পগুলো এখন এক প্রকার পরিত্যক্ত জনপদে রূপ নিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থাকা এই ঘরগুলো এখন এলাকার বখাটে ও মাদকসেবীদের নিরাপদ আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, প্রকল্প এলাকার অধিকাংশ ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে কিংবা কোনো কোনো ঘরের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। ঘরগুলোর চারপাশ ঘন ঝোপঝাড় ও জঙ্গলে ঢেকে গেছে, যা সামগ্রিক পরিবেশকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে চালুয়াবাড়ি ও বোহাইল ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতে এই চিত্র সবচেয়ে বেশি প্রকট। উদাহরণস্বরূপ, চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নে দুইশ ঘরের মধ্যে মাত্র ছয়টিতে এবং বোহাইল ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজারের মধ্যে কেবল বারোটি পরিবার কোনোমতে বসবাস করছে। বাকি সব ঘরই দীর্ঘদিন ধরে তালা ঝুলিয়ে ফাঁকা রাখা হয়েছে।

কর্নিবাড়ী ইউনিয়নের চরে ২০১৮ সালে নির্মিত পাঁচশ আধাপাকা টিনের ঘরের অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। সে সময় দুই কক্ষবিশিষ্ট এসব ঘর ভূমিহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হলেও বর্তমানে মাত্র বারোটি পরিবার সেখানে টিকে রয়েছে। সেখানকার বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার মতো জরুরি সেবা পাওয়ার জন্য কয়েক মাইল দূরের পথ পাড়ি দিতে হয়, তাও আবার দুর্গম যমুনা নদী পার হয়ে। এছাড়া কর্মসংস্থানের কোনো সুযোগ না থাকায় এবং সামাজিক নানা জটিলতার কারণে প্রকৃত উপকারভোগীরা বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। যেসব বয়স্ক নারী বা ব্যক্তি নামেমাত্র বরাদ্দ ধরে রেখেছেন, তারা অসুস্থতা ও বার্ধক্যের কারণে বেশিরভাগ সময়ই আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করেন। ফলে সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

প্রকল্পের ঘরগুলোতে যারা এখনো কষ্ট করে টিকে আছেন, তারাও নানা ধরনের বঞ্চনা ও সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করার কারণে অনেক সময় সামাজিকভাবে তাদের হেয়প্রতিপন্ন হতে হয়। পাশাপাশি, প্রকল্পের শুরুর দিকে নানা ধরনের সরকারি সহায়তা পাওয়া গেলেও বর্তমানে কোনো ধরনের সাহায্য-সহযোগিতাও মিলছে না। এসব বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, প্রকৃত আগ্রহী অনেক ভূমি ও গৃহহীন পরিবার জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে ঘরগুলো ফাঁকা পড়ে রয়েছে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অবকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং যথাযথ তদারকি না থাকায় কোটি কোটি টাকার এই সরকারি প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com