October 22, 2026, 9:27 am
সর্বশেষ সংবাদ:

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের মরিয়া কূটনীতি, ফের ত্রিমুখী শান্তি আলোচনায় পুতিনের সম্মতি

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, October 22, 2026
  • 13 Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেন সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মধ্যস্থতায় আগামী মাসে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে নতুন করে একটি ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা আয়োজনের ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্প্রতি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠকের পর ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। সম্ভাব্য এই বৈঠকের ভেন্যু হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং আগামী নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই আলোচনা শুরু হতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘাত বন্ধের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে এল, যখন মস্কো ও কিয়েভের মধ্যকার বিরোধ চরমে রয়েছে।

সেন্ট পিটার্সবার্গের ঐতিহাসিক একটি প্রাসাদে মার্কিন বিশেষ দূত ও রুশ প্রেসিডেন্টের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। পুতিনের সঙ্গে মার্কিন দূতের এটি ছিল নবম সরাসরি সাক্ষাৎ, যা দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। বৈঠকের শুরুতে পারস্পরিক সদিচ্ছার বড় নিদর্শন হিসেবে রাশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী থাকা এক অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেয় মস্কো। এর আগে এই মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়ার জন্য রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ জানিয়েছিলেন হোয়াইট হাউসের শীর্ষ নেতা। ক্রেমলিন সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি মূলত কারিগরি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী সময়ে দুই দেশের নিরাপত্তা কীভাবে বজায় রাখা যায় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এদিকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের ওপর কড়া চাপ সৃষ্টি করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে কিয়েভকে অতি দ্রুত এই সংঘাতের ইতি টানতে হবে, অন্যথায় দেশটিকে বড় ধরনের পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। তবে শান্তি আলোচনার টেবিলে বসার প্রাথমিক সম্মতি মিললেও রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন তাঁর পূর্বের অবস্থান থেকে এক চুলও সরে আসেননি। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, দেশটির ন্যাটো জোটে যোগদানের তীব্র বিরোধিতা এবং সাময়িক যুদ্ধবিরতির বদলে একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির দাবি কঠোরভাবে ধরে রেখেছেন তিনি। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন যে তিনি এই শান্তি প্রক্রিয়ার মূল বিষয়গুলো নিয়ে সরাসরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে আলোচনা করতে অত্যন্ত আগ্রহী।

সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও মার্কিন প্রশাসনের মধ্যকার এই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ওয়াশিংটন এবং কিয়েভের পারস্পরিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি করার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা নেমে আসে। পাশাপাশি ইউক্রেন অভিযোগ করেছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সামরিক যোগাযোগের স্যাটেলাইট সেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। তবে কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তা সত্ত্বেও মৌলিক কিছু বিষয়ে দুই পক্ষের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী থাকায় এই শান্তি উদ্যোগের সফলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা সংশয় রয়ে গেছে।

আবুধাবিতে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা শুরু হলে তা হবে ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক দক্ষতার একটি বড় পরীক্ষা। ইউক্রেনের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা, পশ্চিমা সামরিক জোটে যোগদান এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তার মতো জটিল বিষয়গুলোতে দুই পক্ষ কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত, তার ওপরই নির্ভর করবে এই সংঘাতের স্থায়ী পরিণতি। কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনার দরজা উন্মুক্ত হলেও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনো বেশ বন্ধুর। ভূরাজনৈতিক স্বার্থ এবং পরস্পরবিরোধী দাবির বেড়াজাল ভেদ করে এই ত্রিমুখী আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো ফলপ্রসূ চুক্তির জন্ম দিতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com