April 5, 2026, 3:43 am
সর্বশেষ সংবাদ:

ইরান যুদ্ধে প্রতিদিন ৩ ডলার গুনছেন একজন মার্কিন নাগরিক

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, April 4, 2026
  • 5 Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান যুদ্ধ ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মাসে যুদ্ধ শুরুর মাত্র ছয় দিনের মাথায় পেন্টাগন জানায়, এই সময়ের মধ্যেই তাদের ১ হাজার ১৩০ কোটি (১১.৩ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় হয়েছে। আর নতুন হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম এক মাসেই মোট খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি ডলার থেকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি ডলার। যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। গড় হিসাবে, এতে প্রতিদিন একজন মার্কিন নাগরিকের ওপর খরচ পড়ছে প্রায় ২ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৮ ডলার, যার মধ্যম মান প্রায় ৩ ডলার।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দৈনন্দিন খরচেও হেরফের হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় খরচ আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লড়াইয়ে এখনো প্রতিদিন গড়ে ৩৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় করছে ওয়াশিংটন।

কোথায় খরচ হচ্ছে বেশি

সরাসরি ব্যয়: যুদ্ধের সবচেয়ে দৃশ্যমান অংশ
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বড় ব্যয় হচ্ছে সামরিক খাতে। বিমান হামলা, নৌবাহিনীর উপস্থিতি, যুদ্ধজাহাজ পরিচালনা- সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। প্রথম এক মাসেই সামরিক ব্যয় ২৩ থেকে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে পৌঁছেছে। আধুনিক অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান ও সেনা মোতায়েন- সবকিছুই এই ব্যয় বাড়াচ্ছে। অর্থাৎ, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, সরাসরি এই খরচ তত দ্রুত বাড়বে।

জ্বালানি বাজার: সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ধাক্কা
যুদ্ধের সবচেয়ে দ্রুত প্রভাব পড়েছে তেলের দামে। সংঘাত শুরুর আগে যেখানে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ডলার, তা বেড়ে ১১০ থেকে ১১৫ ডলারের বেশি হয়েছে।

এর পেছনে মূল কারণ: হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকি, সরবরাহে অনিশ্চয়তা, বাজারে আতঙ্ক।

এর সরাসরি প্রভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি হয়েছে। এছাড়া খাদ্যসহ সব পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ ‘অদৃশ্য কর’ হিসেবে বেশি টাকা দিচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি: ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়া সংকট
তেলের দাম বাড়া মানেই শুধু পেট্রোলের দাম বাড়া নয়-এটি পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে পরিবহন ব্যয় বাড়ে, উৎপাদন খরচ বাড়ে, বাজারে পণ্যের দাম বাড়ে। এমনভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করে।

‘অদৃশ্য’ ক্ষতি আরও বড়
যুদ্ধের আরেকটি বড় প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদমূল্য হারিয়েছে, অবসরভাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে। এই ক্ষতি সরাসরি হাতে ধরা না পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেয়।

ঋণ ও সুদের হার: ভবিষ্যতের চাপ
যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই বিশাল ঋণের বোঝা নিয়ে চলছিল। যুদ্ধ সেই চাপ আরও বাড়াচ্ছে। এতে করে সরকারি ঋণ বাড়ছে, সুদের হার বাড়ছে, মর্টগেজ ও ঋণের খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থাৎ, আজকের যুদ্ধের খরচ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও বহন করতে হবে।

প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়
অন্য এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে। বিমান ও নৌবাহিনীর মোতায়েন, যুদ্ধজাহাজ পরিচালনা এবং আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের কারণেই এই বিপুল ব্যয় হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই খরচ আরও দ্রুত বাড়বে এবং তা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
সূত্র: বিইনক্রিপ্টো

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com