November 1, 2026, 7:08 am

ওষুধ ও পাটপণ্যে থাই বাজার ধরার উদ্যোগ

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, November 1, 2026
  • 14 Time View

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারিত হলেও দুই দেশের আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে একটি বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক একটি অর্থবছরে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রপ্তানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ প্রায় তেরো গুণ বেশি ছিল। এর ফলে দীর্ঘকাল ধরে দুই দেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি বজায় রয়েছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, থাইল্যান্ড থেকে আমদানি কিছুটা কমলেও সেই অনুপাতে দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়েনি বরং সামান্য হ্রাস পেয়েছে।

এই বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা দূর করার উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ, পাট এবং পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। ব্যাংককে অনুষ্ঠিত দুই দেশের চতুর্থ পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ বৈঠকে ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে থাইল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করা এবং শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব উত্থাপন করে। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং থাইল্যান্ডের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব একসিরি পিন্তারুচি। বাংলাদেশর পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছে থাইল্যান্ড।

থাইল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রসারে কেবল শুল্ক কমানোই নয়, বরং মান নিয়ন্ত্রণ, নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং বাজারজাতকরণের নানা শর্ত শিথিল করার বিষয়টিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এসব খাতের পাশাপাশি ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে থাইল্যান্ডের কারিগরি সহযোগিতা এবং সরাসরি বিনিয়োগ চেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান হালাল খাদ্যের বাজার ধরার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি বিনিময়ের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে আতিথেয়তা, নার্সিং, কৃষির জার্মপ্লাজম এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য থাইল্যান্ডের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার সহায়তা কামনা করা হয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে জ্বালানি খাতের সহযোগিতাকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী দশকের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জাতীয় লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ। বিশেষ করে কৃষির অবশিষ্টাংশ এবং কৃষিশিল্পের বর্জ্য ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। উভয় দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com