October 12, 2026, 4:50 am
সর্বশেষ সংবাদ:
রিমার্কের শীর্ষ পাঁচ পরিবেশক পুরস্কৃত নাট্যাঙ্গনে বহুমাত্রিক ইনামুল হকের অভাব বিএডিসির ৬৫ বছরের অভিযাত্রা: কৃষকের মাঠ থেকে মানুষের পাতে ইন্দোনেশিয়ার খরা সংকট নিরসনে চীনের নলকূপ প্রকল্প একই দিনে পাঁচ ব্যাটারের সেঞ্চুরি সুন্দরবন রক্ষায় সমন্বিত চেষ্টা দরকার পূজায় সম্প্রীতি রক্ষা ও জনস্বার্থে এনসিপির একগুচ্ছ কর্মসূচি ঘোষণা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পথনাটক ও প্রদর্শনীর আয়োজন সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ দিল্লিতে আন্দোলনে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে শাহবাগে মশালমিছিল

গারো পাহাড়ে হাতির অভয়ারণ্য হলে বন্ধ হবে বন দখলও: বনমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, October 11, 2026
  • 22 Time View

জাতীয় ডেস্ক: শেরপুরের গারো পাহাড় এলাকায় বন্যহাতির জন্য নির্দিষ্ট অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠা এবং পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে মানুষ ও হাতির মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাত অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি এই উদ্যোগের ফলে পাহাড়ের মূল্যবান বনভূমি অবৈধভাবে জবরদখল করার অপচেষ্টাও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা। সম্প্রতি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কে স্থানীয় মানুষ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় গঠিত বিভিন্ন দলের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্থানীয় প্রশাসন এবং বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তজুড়ে হাতি চলাচলের সুবিধার্থে মোট ছয়টি সুনির্দিষ্ট করিডোর তৈরির সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে এবং এসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে এই করিডোরগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল জোরালো আশা প্রকাশ করেছে। এর ফলে দুই দেশের সীমানা পারাপারে বন্যহাতিগুলো নিরাপদ পথ খুঁজে পাবে এবং লোকালয়ে ঢুকে পড়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।

বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকরা পরিবেশ রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করছেন বলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উল্লেখ করেন বনমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় শেরপুরের গারো পাহাড় অঞ্চলে হাতির একটি স্থায়ী অভয়ারণ্য গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে বন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় করা হবে। এই অভয়ারণ্য বাস্তবায়িত হলে কেবল বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশই সুরক্ষা পাবে না, বরং সামগ্রিক বনভূমি বেদখল হওয়ার ঝুঁকিও অনেকাংশেই দূর হবে। স্থানীয় জনসাধারণ ও বন বিভাগের যৌথ প্রচেষ্টায় এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় মত প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বন্যহাতির আকস্মিক আক্রমণ ও নাশকতার শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বিভিন্ন এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষায় সক্রিয়ভাবে কাজ করা এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যদের হাতে হাতি তাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম ও জগলাইট তুলে দেওয়া হয়। এর আগে মন্ত্রী নিজে সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে গারো পাহাড়ের হাতি চলাচলের ঐতিহ্যবাহী করিডোরগুলোর বর্তমান অবস্থা ঘুরে দেখেন এবং মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করেন। স্থানীয় জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় এলাকার সংসদ সদস্য, পুলিশ সুপার, প্রধান বন সংরক্ষকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com