আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটি’। বিগত দেড় দশকে রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া এবং গোপন স্থানে আটকে রেখে নির্যাতনের যে অভিযোগ রয়েছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার বিভাগীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে।
কমিটির পক্ষ থেকে তদন্ত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন আটক কেন্দ্রগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, প্রমাণাদি সংরক্ষণ এবং নির্দেশদাতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিচার করার দাবি তোলা হয়েছে। তারা স্পষ্ট করেছে যে, গুমের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় বা প্রভাবশালী মহলের পরিকল্পিত অপরাধের অংশ হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিচারযোগ্য।
স্মারকলিপিতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মিরাজ শেখের মতো সাম্প্রতিক নিখোঁজের ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশনা অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং প্রস্তাবিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানানো হয়েছে। মোট ১৪টি দাবির সমন্বয়ে গঠিত এই স্মারকলিপিটি মূলত বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধের একটি নৈতিক তাগিদ।