বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একটি এজলাসে জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার জেরে হট্টগোল ও মারধরের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। আদালতের বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে জামিন বাতিল হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এক আসামি। পরবর্তীতে তিনি বিচারকের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন এবং দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপরও হামলা চালান। বিচারকের আদেশ অমান্য করে এজলাসকক্ষে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করায় তাৎক্ষণিকভাবে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের বাসিন্দা বশির একটি সিআর মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেছিলেন। বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলে তিনি চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং বিচারকের সঙ্গে উচ্চবাচ্য শুরু করেন। এসময় তিনি এজলাসকক্ষেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। উপস্থিত আইনজীবীরা তাকে বারবার শান্ত করার চেষ্টা করলেও তিনি তা অগ্রাহ্য করে নিজের মতো হইচই অব্যাহত রাখেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এজলাসে থাকা পুলিশ সদস্যরা অভিযুক্ত বশিরকে হাতকড়া পরাতে এগিয়ে যান। কিন্তু তিনি পুলিশের ওপর চড়াও হন এবং তাদের মারধর শুরু করেন। এই আকস্মিক হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন, যাদের মধ্যে মো. সিদ্দিক, মো. শাহজাহান ও হনুফার নাম জানা গেছে। আদালতের পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ফলে সেখানে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই আদালত তাৎক্ষণিক বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দণ্ড ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা আমলে নেন এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত বশিরকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। বিচারালয়ের ভেতরে এমন নজিরবিহীন আচরণ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।