September 16, 2026, 7:05 pm

বন্ধুকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে ৬ টুকরো, গুম করতে নদীতে ফেলা হয় খণ্ডিত মরদেহ

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, September 16, 2026
  • 17 Time View

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত এসআরবি-৪ মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের তথ্য জানানো হয়। গত সরকারের পতনের সময় ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেফতারের পর এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বিবরণ সামনে আসে। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) একটি আভিযানিক দল মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই পলাতক আসামিকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয়। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকা এই শীর্ষ অপরাধীর গ্রেফতারে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম সোহেল রানা, যিনি আলোচিত একটি হত্যা মামলায় আদালতের বিচারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাবাস করছিলেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার মো. জহির এবং অভিযুক্ত সোহেল রানা একে অপরের প্রতিবেশী ও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বলে জানিয়েছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। স্থানীয় এক মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে জহিরের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বন্ধু সোহেল রানা ও তার সহযোগীরা জহিরকে কৌশলে সাভারের হেমায়েতপুরে বেড়াতে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে ফেরার পথে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, হত্যার পর অপরাধীরা মৃতদেহ গুম করার এক ভয়ংকর পথ বেছে নেয় যাতে কখনোই এর কোনো হদিস না মেলে। তারা জহিরের মরদেহটি কেটে মোট ছয় টুকরো করে ফেলে এবং পরবর্তীতে তা পার্শ্ববর্তী একটি নদীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ভাসিয়ে দেয়। এই নৃশংস ঘটনার পর নিহতের বাবা বাদী হয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দীর্ঘ তদন্ত এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত ২০১৯ সালে সোহেল রানাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করে এবং তাকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে, গত বছরের ৬ আগস্ট সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার দেশব্যাপী কারাগার ভাঙার ঘটনার সুযোগ নেয় এই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। সে সময় কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের তালা ভেঙে এবং কারারক্ষীদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে বন্দি সোহেল রানা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর সে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজের পরিচয় গোপন করে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে বসবাস করে আসছিল। অবশেষে এসআরবি-র গোয়েন্দা নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানাধীন আজিমপুর এলাকা থেকে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com