আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী গুমকে বিশ্বের অন্যতম জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, গুম কেবল কোনো ব্যক্তির অন্তর্ধান নয়, বরং এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের চূড়ান্ত বিনাশ। স্বজনদের দিনের পর দিন অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটানো এবং শোক পালনের সুযোগ না থাকাকে তিনি এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতের স্বৈরাচারী শাসনামলে ভিন্নমতের মানুষকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে সাত শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করা হয়েছে। এ সময়কার গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি এই অমানবিকতার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি জানান, বর্তমান সরকার প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
ভবিষ্যতে গুমের মতো অপরাধ প্রতিরোধে সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-এর মতো আইনি কাঠামো তৈরি করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি এই মনুষ্যত্বহীন অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি গুম হওয়া ব্যক্তির বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।