অপরাধ ডেস্ক: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে বয়স জালিয়াতি এবং নিয়মের বাইরে গিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর চাকরি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে এই জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নির্ধারিত বয়সের সীমা অতিক্রম করার পরও তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে চাকরি বাগিয়ে নেন এবং পরবর্তীতে অবৈধ উপায়ে বিভিন্ন পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে বিপিসির উপব্যবস্থাপক পদে নিয়োগের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৩ বছর নির্ধারিত থাকলেও আবেদনের সময় মোরশেদ হোসাইনের বয়স ছিল ৩৬ বছর দুই মাস ২০ দিন। মন্ত্রণালয়ের তদন্তে এই বয়স জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট জনবলকাঠামো বা অর্গানোগ্রামের বাইরে গিয়েও তাঁকে বিভিন্ন সময় পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২১ সালের শেষ দিকে এই কর্মকর্তা মোরশেদ হোসাইনের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করার জন্য বিপিসি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিলেও তা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি বিপিসির একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে কর্মচারীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করলেও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ দাবি করেন যে, তাঁর নিয়োগ তিনি নিজে দেননি এবং তৎকালীন নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করেই তাকে নির্বাচিত করেছিল। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তার সম্পূর্ণ দায় তৎকালীন নিয়োগ কমিটির ওপর বর্তায় বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, বিপিসির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, যা পুরো বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানামুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।