২০২৬ সালের ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পাদিত এই সামরিক সমঝোতা কেবল একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা চুক্তি নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের সুরক্ষায় স্বনির্ভর হওয়ার একটি কৌশলগত উদ্যোগ। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় উপসাগরীয় দেশগুলোকে আস্থায় না নেওয়ায় যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, এই চুক্তি সেই শূন্যতা পূরণের একটি প্রচেষ্টা।
এই চুক্তিতে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ-৫ এর আদলে সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথা থাকলেও, এটি কোনো বাধ্যতামূলক যুদ্ধজোট নয়। বরং এটি একটি নমনীয় কাঠামো, যেখানে সদস্য দেশগুলো প্রয়োজনে একে অপরকে গোয়েন্দা ও লজিস্টিক সহায়তা দেবে। তুরস্কের জন্য এটি নিজের নিরাপত্তা সক্ষমতা প্রমাণের সুযোগ, সৌদি আরবের জন্য অস্তিত্ব রক্ষার নতুন উপায় এবং পাকিস্তানের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণে বড় খেলোয়াড় হয়ে ওঠার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব হ্রাসের স্পষ্ট সংকেত বহন করছে। ওয়াশিংটন এখন সরাসরি নিরাপত্তার বদলে ‘সহায়ক শক্তি’ হিসেবে থাকতে চাইলেও, আঞ্চলিক দেশগুলো আর এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা রাখতে রাজি নয়। সামগ্রিকভাবে, মক্কা চুক্তি বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের এই যুগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নিয়ন্ত্রণের ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।