October 26, 2026, 9:06 am

মধ্যপ্রাচ্যে ভেতরে-ভেতরে ‘লিবারেল বিপ্লব’

Reporter Name
  • Update Time : Monday, October 26, 2026
  • 12 Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ সবসময় ধর্মকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থায় অভ্যস্ত এবং তারা উদারনীতিতে আগ্রহী নয়—সাধারণত এমন ধারণাই প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের ওপর চালানো ধারাবাহিক জরিপে এক ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, কঠোর ও স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার আড়ালে মিসর, ইরান, ইরাক, সৌদি আরব ও তুরস্কের সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্রমশ উদারনৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক দমনপীড়ন এবং ধর্মীয় কড়াকড়ির বিপরীতে সাধারণ মানুষের মনে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

জরিপগুলোতে মূলত আত্মপ্রকাশমূলক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, লিঙ্গসমতা এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে, শাসকগোষ্ঠী যত বেশি গণতান্ত্রিক দাবিসমূহ দমন করার চেষ্টা করেছে, এই অঞ্চলের মানুষ তত বেশি উদারনৈতিক চিন্তাধারার দিকে ঝুঁকেছে। বিশেষ করে মিসর ও তুরস্কে পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে উদারনৈতিক মূল্যবোধের বিস্তার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব হ্রাসের পাশাপাশি রাজনীতি থেকে ধর্মকে আলাদা রাখার প্রবণতাও সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই মূল্যবোধের পরিবর্তনের পেছনে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে ইসলামি মৌলবাদ ও জোর করে আচরণ নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো। সৌদি আরবে নারীদের ওপর চলা বিধিনিষেধ কিংবা ইরানে পোশাকের কড়াকড়ির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ইরান ও সৌদির মতো দেশগুলোতে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে একধরনের ‘প্রতিরোধী উদারনীতি’ জন্ম নিয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বিভিন্ন গণবিক্ষোভ ও আন্দোলনে। ফলস্বরূপ, গত দুই দশকে এই দেশগুলোতে ধর্মীয় রীতিনীতির প্রতি মানুষের আকর্ষণ নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে।

যদিও সামাজিক এই পরিবর্তনগুলো এখনো সরাসরি রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি, তবে তা ভবিষ্যতের বড় পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ ইতিমধ্যে আরব জাতীয়তাবাদ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ইসলামের মতো বিভিন্ন মতাদর্শের শাসন দেখেছে, যার কোনটিই মানুষের অধিকার ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে বাইরের বিশ্বের প্রচলিত সেই ধারণা এখন বদলানোর সময় এসেছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে কেবল একনায়কতন্ত্র কিংবা রাজনৈতিক ইসলামের মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করা হতো।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com