July 1, 2026, 4:08 am
সর্বশেষ সংবাদ:
ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপারের মানুষের ছাত্রদলের ১৭ বছরের আন্দোলনের সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাই অভ্যুত্থানে: রিজভী বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী, সাশ্রয় ৫০ লাখ টাকা স্বাধীনতার বিরোধিতার দায়ে বিএনপির ক্ষমা চাওয়া উচিত: গোলাম পরওয়ার বিসিবির বর্তমান কমিটিতে ক্রিকেট গতিশীল হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র বিতরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত আগামী ৫ দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর বাজেট বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা হবে ব্যাংকিং খাত: জামায়াত এমপি জাতীয় সংসদে আইনজীবীর পোশাকে রুমিন ফারহানা, সংসদে আলোচনা মুক্তিযুদ্ধ থেকে জুলাই অভ্যুত্থানকে আলাদা করার সুযোগ নেই: আখতার হোসেন

যে ভঙ্গিতে ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ক্ষতিকর

Reporter Name
  • Update Time : Friday, January 9, 2026
  • 128 Time View
148

আপনার শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। এটি যেমন জরুরি, ঠিক তেমনই আপনি কোন ভঙ্গিতে শুয়ে ঘুমাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সঠিক ভঙ্গিমায় না ঘুমালে পেশির ব্যথা যেমন ভোগাবে, ঠিক তেমনই অনিদ্রাজনিত সমস্যাও দেখা দেবে।

আর সামাজিক মাধ্যমের বদৌলতে ‘স্লিপ প্যাটার্ন’ নিয়ে এখন খুব চর্চা হয়। এ শব্দটি এখন আর অচেনা নয়। শোয়ার জন্য কোন ভঙ্গি আদর্শ, আর কোনটি ক্ষতিকর, সে নিয়ে বিস্তর গবেষণাও হচ্ছে।

উপুড় হয়ে শোয়া ক্ষতিকর, আবার কারও মতে, হাঁটু মুড়ে বুকের কাছে নিয়ে এসে ঘুমানো মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। দুই হাত দুই পাশে ছড়িয়ে এবং দুই পা সোজা রেখে চিত হয়ে শোয়ার অভ্যাসও নাকি ক্ষতিকর। কিন্তু যে ভঙ্গিটি নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে, সেটিই নাকি বেশিরভাগ মানুষের পছন্দ। আর সেখানেই ঘটছে বিপদ।

দুই হাত বুকের কাছে জড়ো করে পাশ ফিরে শুতে বেশি ভালো লাগে? এই ভঙ্গিতে শোয়া নাকি ক্ষতিকর। তেমনই দাবি করা হয়েছে নানা গবেষণায়। সম্প্রতি হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, দুই হাত বুকের কাছে জড়োসড়ো করে রেখে ঘুমের ভঙ্গি পছন্দ করেন অনেকেই। এতে নাকি আরাম হয় বেশি। এই ভঙ্গিকে বলা হয় ‘টি-রেক্স পজিশন’।

দুই হাত কনুই থেকে মুড়িয়ে, কব্জি ভাঁজ করে বুকের কাছে বা থুতনির নিচে চেপে ধরে শোয়ার ভঙ্গিটি অনেকটা ডাইনোসর টি-রেক্সের মতোই দেখায়। তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়— ‘টি-রেক্স স্লিপ পজিশন’ বলা হয়। এতে যে ক্ষতি হতে পারে?

রক্ত সঞ্চালনে বাধা

প্রথমত হাত ভাঁজ করে বুকের নিচে চেপে রাখলে ওই অংশের রক্তনালিগুলো সঙ্কুচিত হয়ে যায়। ফলে হাতে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়, যা পেশি ও কোষের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে রক্ত সঞ্চালন বাধা পেলে, হাত ও কাঁধের পেশি অসাড়তা বাড়ে। এতে কব্জির কাছ থেকে হাতের যন্ত্রণা শুরু হয়।

পেশিতে টান

হাত ও কনুইয়ের কাছে পেশিতে টান ধরতে পারে। অনেক সময়েই দেখা যায়, যারা ‘টি-রেক্স’ ভঙ্গিতে ঘুমান, তারা ঘাড় ও কাঁধের যন্ত্রণায় বেশি ভোগেন। এর থেকে অনেক সময়ে ফ্রোজেন শোল্ডারের লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

কারপাল টানেল সিনড্রোম

কব্জির কাছ থেকে হাত ভাঁজ করে রাখলে ওই অংশের পেশির প্রদাহ বাড়ে। ফলে সেখানকার স্নায়ুগুলোর ক্ষতি হয়। হাতের কব্জির কাছে একটি সরু নালির মতো অংশ আছে, যাকে ‘কারপাল টানেল’ বলা হয়। অনেকটা সুড়ঙ্গের মতো। এর মধ্য দিয়ে চলে গেছে ‘মিডিয়ান স্নায়ু’। এই স্নায়ুই হাতের বুড়ো আঙুল, তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকাকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যদি কোনো কারণে ওই নালি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা স্নায়ুর উপরে চাপ পড়ে, তখন হাতের কব্জিতে যন্ত্রণা শুরু হয়। কব্জির পেশি শক্ত হয়ে যেতে থাকে। হাত নাড়তে গেলে, মুঠো করে কিছু ধরতে গেলে ব্যথা হয়।

ডেড আর্ম

সারা রাত হাত মুড়িয়ে রাখলে হাতের পেশির অসাড়তা বাড়তে পারে। এর থেকে হাতে ঝিঁ ঝিঁ ধরা, অবশ হয়ে যাওয়া এবং ঘুম থেকে উঠেই হাতে যন্ত্রণা হতে পারে।

আবার যে কোনো এক পাশ ফিরে একটি পায়ের হাঁটু বুকের কাছে মুড়ে রেখে এবং দুই হাত সামনের দিকে প্রসারিত করে শোয়ার অভ্যাসও সঠিক নয়। দীর্ঘ দিন এমনভাবে ঘুমানো শরীরের ভার সমান ভাবে বিছানায় থাকে না। ফলে কাঁধের উপর চাপ পড়ে। কাঁধ, ঘাড় ও কোমরের ব্যথা ভোগাতে পারে।

চিকিৎসকরা বলেন, বাম পাশ ফিরে ঘুমানো শরীরের জন্য ভালো। বাঁ দিক ফিরে শুলে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কম হবে, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যায় যারা ভোগেন, তারা আরাম পাবেন। এর পাশাপাশি পেশির ব্যথা কম হবে, হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ কম পড়বে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com