রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আমরা অহরহ সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাই। মন্ত্রী, আমলা, পুলিশ কিংবা রাজনীতিবিদদের প্রতি আমাদের ক্ষোভের শেষ নেই। কিন্তু এই প্রশ্নটি আমরা এড়িয়ে যাই যে, সরকার কোনো আকাশ থেকে পড়া শক্তি নয়, বরং আমাদের সমাজ থেকেই তারা উঠে এসেছে। আমাদের ভোট, আমাদের তোষামোদ আর আমাদের নৈতিক অবক্ষয়ের মাধ্যমেই গড়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার এই কাঠামো। তাই শুধু সরকারকে দোষারোপ করা কি আত্মপ্রবঞ্চনা নয়?
আমাদের সামাজিক সংস্কৃতিতে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার প্রবণতা অনেক পুরোনো। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে তারও আগে জমিদারী প্রথা পর্যন্ত এমন এক ব্যবস্থা চালু ছিল, যেখানে সত্যের চেয়ে তেল মারার কৌশল বেশি কার্যকর ছিল। আজকের দিনেও সেই মানসিকতা প্রকট। চাকরির জন্য ঘুষ দেওয়া, পরীক্ষায় নকল করা কিংবা ভেজাল পণ্য তৈরি করার মতো অপরাধগুলো আমরা নিজের স্বার্থে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিই। অথচ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও সততা আশা করি। এই দ্বৈত নীতি বজায় রেখে রাষ্ট্র পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা কতটা বাস্তবসম্মত?
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রক্রিয়া অবশ্যই সংসদ ও আইন থেকে শুরু হওয়া উচিত, কিন্তু তার স্থায়ী ভিত্তি রচিত হতে হবে নাগরিকের চরিত্রে। আমরা যদি নিজেরা ঘুষ দেওয়া, তদবির করা বা অন্যায় সুবিধা নেওয়া বন্ধ করতে না পারি, তবে সরকার পরিবর্তন হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হবে না। পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে ভোটের বাক্সের বাইরে গিয়ে আমাদের নিজেদের ভেতরের চরিত্রে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ভুলগুলো স্বীকার না করলে, রাষ্ট্রকে সৎ করার দাবি তোলা কেবল একটি ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয়।