October 20, 2026, 7:46 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
নীরব বসন্তের কালে অপরাধী ধরা যায়, ছোঁয়া যায় না সুপ্রিম কোর্টে অগ্নিনিরাপত্তা মহড়া করেছে ফায়ার সার্ভিস চুয়েটে অচলাবস্থা, সংকট নিরসন কমিটিতেও নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি বাবার কাছ থেকে শেখা, প্রতিমা তৈরি করেই সংসারের হাল ধরেছেন যূথীমনি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো তরুণী নিজেদের মেয়ে দাবি টাঙ্গাইলের এক পরিবারের সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়ার লক্ষ্য অদম্য মফিজারের বান্দরবানে হোটেল–মোটেলে শতভাগ বুকিং, করোনা মহামারির পর সর্বোচ্চ পর্যটক আগে পদ ছেড়েছেন প্রায় তিন ডজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী গোদাগাড়ীতে একই আঙিনায় মসজিদ-মন্দির, চলছে নামাজ-পূজা এআই কি কাজ সহজ করছে, নাকি কাজের চাপ বাড়াচ্ছে

সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো তরুণী নিজেদের মেয়ে দাবি টাঙ্গাইলের এক পরিবারের

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, October 20, 2026
  • 16 Time View

জাতীয় ডেস্ক: সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর এবং কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার একটি পরিবারে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবির তরুণীকে নিজেদের নিখোঁজ মেয়ে সুইটি আক্তার হিসেবে দাবি করেছেন ওই পরিবারের সদস্যরা। তবে ওই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সুইটি আক্তার আদৌ জড়িত আছেন কি না কিংবা তিনি বর্তমানে জীবিত আছেন কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত বা নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রিয় সন্তানের এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারের প্রতিটি সদস্য। মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে তার মা জহুরা বেগম সারাক্ষণ বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন এবং ছবি বুকে জড়িয়ে অপেক্ষা করছেন কোনো সুখবরের জন্য। অন্যদিকে তার বাবা ফজলু মিয়া চরম মানসিক আঘাত ও উদ্বেগের কারণে প্রায় নির্বাক হয়ে মেয়ের খবরের প্রতীক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। মেয়ের ভাগ্যে আসলে কী ঘটেছে, তা জানার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে পরিবারটি।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফজলু মিয়ার ছোট মেয়ে হলেন এই সুইটি আক্তার। পারিবারিক জীবনের টানাপোড়েনের জেরে বিচ্ছেদের শিকার হওয়ার পর, জীবন সংগ্রামে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় তিনি বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে স্থানীয় নতু মিয়া নামের এক দালালের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। ওই দালালের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর নাম করে পরিবারটির কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর মক্কার আল মাজাল আল আরবি গ্রুপ কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন সুইটি। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, সেখানে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর তিনি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। তবে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অত্যন্ত দেরিতে, প্রায় এক বছর পর পরিবার জানতে পারে। একপর্যায়ে সুইটি নিজেই মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আটকের বিষয়টি তাদের জানান।

পরিবারকে সুইটি জানিয়েছিলেন যে মারামারির একটি ঘটনায় তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তবে সৌদি আরবে অবস্থানরত সুইটির এক বান্ধবী পরবর্তীতে পরিবারকে অন্য তথ্য জানান। ওই বান্ধবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর থেকেই মেয়েকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা ও আতঙ্কে দিন কাটছিল পরিবারটির। এর মধ্যে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে তাদের সেই ভয় বহুগুণ বেড়ে যায়। সুইটির বাবা ফজলু মিয়া জানান, গত ১৩ অক্টোবর সকালে মেয়ের সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়েছিল। সে সময় সুইটি তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেছিল যে আর মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই সে দেশে ফিরে আসবে। কিন্তু এরপর থেকে মেয়ের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও খবরগুলো দেখে পরিবারটি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা জহুরা বেগম আকুতি জানিয়ে বলেন, তাদের মেয়ে যদি বেঁচে থাকে, তবে যেন তাকে দ্রুত সুস্থ শরীরে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আর যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকে, তবে যেন অন্তত সত্য বিষয়টি তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। মেয়ের এই শোচনীয় অবস্থার কথা ভেবে বাবা-মায়ের চোখে ঘুম নেই বললেই চলে। পরিবারের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি জানানো হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির সত্যতা যাচাই করে যেন দ্রুত সুইটি আক্তারের বর্তমান অবস্থান ও পরিস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। তিনি যদি বেঁচে থাকেন তবে তাঁকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে যদি কোনো আইনি পদক্ষেপ বা সাজা হয়ে থাকে, সে বিষয়েও যেন নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়। এদিকে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, সুইটি আক্তার ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি। ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তাঁর বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম জানিয়েছেন যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য না মিললেও গণমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তা নিশ্চিত করতে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com