October 29, 2026, 8:26 am

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর: মাঠের পর মাঠজুড়ে আমন ধানের ঘ্রাণ

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, October 29, 2026
  • 12 Time View

জাতীয় ডেস্ক: সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন শুধু পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ আর সোনালি রঙের সমারোহ। উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের রৌহাবাড়ী এলাকার মাঠগুলোতে কোথাও চলছে ধান কাটার ব্যস্ততা, আবার কোথাও ধানের শিষ বাতাসে দুলছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো পরিচর্যার কারণে এবার রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের মনে দারুণ আশার সঞ্চার করেছে। মাঠের এই সোনালি দৃশ্য দেখতেও বেশ চমৎকার লাগছে এবং কৃষকদের পরিশ্রমের সঠিক প্রতিদান পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই আনন্দের মধ্যেও ধান ঘরে তোলার প্রক্রিয়া নিয়ে কৃষকদের মনে কিছু বাড়তি উদ্বেগ কাজ করছে।

ফলন ভালো হলেও ধান কাটার বাড়তি খরচ এবং তীব্র শ্রমিকসংকট কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। রৌহাবাড়ী এলাকার কৃষক আবু বক্কার ও কাদের জানান, আধুনিক হারভেস্টর যন্ত্র দিয়ে ধান কাটলে যেমন সময় বাঁচে, তেমনি খরচও অনেক কমে যায়। কিন্তু সব এলাকায় এই যন্ত্র সহজে পাওয়া যায় না বলে তাঁদের বাধ্য হয়ে ঐতিহ্যবাহী উপায়ে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যায়, যা কৃষকদের সামগ্রিক লাভের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে। কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, যন্ত্রের সাহায্যে প্রতি বিঘা জমির ধান কাটতে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার টাকা খরচ হলেও শ্রমিক দিয়ে কাটতে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়।

স্থানীয় কৃষক জব্বার প্রামাণিক জানিয়েছেন, বর্তমানে একজন কৃষি শ্রমিককে প্রতিদিন পাঁচশ থেকে সাতশ টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। ধান কাটার মৌসুম পুরোদমে শুরু হলে এই মজুরির হার আরও বাড়তে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। কৃষকদের মতে, বাজারে সব ধরনের কৃষি উপকরণের দাম যেভাবে বাড়ছে, সেই তুলনায় ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাম্পার ফলন হওয়া সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক লাভ ঘরে তোলা কৃষকদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত হারভেস্টর সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে কৃষকদের এই দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হতো বলে তাঁরা মনে করেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার ৯টি উপজেলায় ৭৬ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে মোট ৭৬ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮১০ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে শুধু কাজীপুর উপজেলাতেই ইতিমধ্যে প্রায় বিশ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ধান কাটার এই ব্যস্ততা পুরো উপজেলায় আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কাজীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম সম্প্রতি জানিয়েছেন, উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ইতিমধ্যে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে। কৃষকদের সার্বিক সহায়তার জন্য সরকারি প্রণোদনা বিতরণের পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। কৃষকদের উৎপাদিত ধানের সঠিক মূল্য প্রাপ্তি এবং ঝামেলাহীনভাবে ফসল ঘরে তোলার বিষয়ে কৃষি বিভাগ সচেষ্ট রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com