জাতীয় ডেস্ক: দেশের স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথ আরও সহজ করতে সরকার সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ বা আইএবি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার স্থাপত্য শিক্ষা এবং স্থপতি পেশাটিকে অত্যন্ত উচ্চমর্যাদার দৃষ্টিতে দেখে এবং তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়নে বদ্ধপরিকর।
অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন আরও বলেন যে, নতুন সরকারের নীতি ও সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের সামগ্রিক স্থাপত্য ও অবকাঠামোগত খাতে এক অভাবনীয় রূপান্তর সাধিত হবে। সরকারের এই রূপকল্প বাস্তবায়নে দেশের তরুণ স্থপতিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে বিশ্বমানের নান্দনিক ও আইকনিক স্থাপনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের সৃজনশীল মেধা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই সরকারি নীতিনির্ধারক।
তরুণ প্রজন্মের স্থপতিদের পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় এক হাজার নতুন স্থপতি স্নাতক ডিগ্রি লাভ করছেন। এদের সবার জন্য দেশীয় বাজারে যেমন পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, তেমনি বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের সুযোগও প্রশস্ত করা হবে। পাশাপাশি, দেশের স্থপতিরা যেন নিজ দেশেই বসে বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক নকশা তৈরি করতে পারেন, সেজন্য বাংলাদেশি ডিগ্রির বৈশ্বিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য ক্যানবেরা অ্যাকর্ডের সঙ্গে দেশের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর তাগিদ দেন উপদেষ্টা, যার জন্য আইএবি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া, স্থাপত্য শিক্ষার মান বাড়াতে পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়ন, গবেষণাগার ও স্টুডিও সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষক সংকট দূর করতে অতিরিক্ত বাজেট ও শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।