দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর এলাকা হিলিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। স্থানীয় প্রতিমা শিল্পীরা দিনরাত পরিশ্রম করে ইতিমধ্যে কাঠ ও মাটির সাহায্যে দেবী দুর্গার অবয়ব তৈরির প্রাথমিক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। নিপুণ হাতে তৈরি এই প্রতিমাগুলোতে এখন শুধু প্রাণের সঞ্চার করার অপেক্ষা বাকি রয়েছে, যা ফুটিয়ে তোলা হবে নিখুঁত রং ও কারুকার্যখচিত সাজসজ্জার মাধ্যমে।
পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের মন কেড়ে নিতে কারিগররা এখন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রতিমাগুলোতে নান্দনিক রূপ দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মৃৎশিল্পীরা জানান যে, মূল কাঠামোর ওপর মাটির প্রলেপ দেওয়ার জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে সামান্য যে সময় হাতে রয়েছে, তার মধ্যেই তারা রং-তুলির ছোঁয়া এবং বিভিন্ন আধুনিক উপকরণের সাহায্যে প্রতিমাগুলোকে আরও আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত করে তোলার চেষ্টা করছেন।
প্রতি বছর এই সময়টিতে শিল্পীদের কর্মব্যস্ততা বহুগুণ বেড়ে যায় কারণ প্রতিটি মণ্ডপের জন্য ভিন্ন ও আকর্ষণীয় প্রতিমা সরবরাহ করতে হয় তাদের। এ বছরও তার কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি, বরং কারিগরদের শৈল্পিক নিপুণতা ফুটিয়ে তুলতে প্রতিটি প্রতিমার সাজসজ্জায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় আয়োজকরা আশা করছেন যে, নির্ধারিত সময়ের আগেই সব প্রতিমা প্রস্তুত করে নির্দিষ্ট মণ্ডপগুলোতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, প্রতিমা তৈরির সঙ্গে জড়িত কারিগরদের এখন দম ফেলারও ফুরসত নেই। তাদের হাতের জাদুকরী ছোঁয়াতেই মাটির সাধারণ পুতুলগুলো একেকটি শিল্পকর্মে রূপান্তরিত হয়ে পূজামণ্ডপগুলোতে ভিন্ন আমেজ তৈরি করবে। রঙ ও সাজের চূড়ান্ত কাজ শেষ হলেই দেবী দুর্গাকে বরণ করার জন্য হিলির প্রতিটি পূজামণ্ডপ পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।