January 29, 2026, 8:48 am
সর্বশেষ সংবাদ:
সাবেক আইজিপি বেনজীরের ‘ক্যাশিয়ার’ রিফাত গ্রেপ্তার ইইউ পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে জামায়াতের বৈঠক প্রচারণায় নারী কর্মীদেরকে হেনস্তার অভিযোগ অরিজিতের প্লেব্যাকে অবসরের সিদ্ধান্তে যা বললেন উদিত নারায়ণ ভোট কয়টা পাব সেটা মুখ্য না, ইনসাফের বাংলাদেশের জন্য কাজ করে যাবো: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হুমাম কাদের চৌধুরীকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজ করেছে বিচারিক কমিটি গোপালগঞ্জে বিচারকের বাসভবনে ককটেল হামলা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে ভোটারদের শঙ্কা দূর করতে হবে: তাসনিম জারা বিয়ের ১৪ বছর পর সাইফকে নিয়ে কোন অভিযোগ কারিনার? সমুদ্রের নিচে থাকা মিসাইলের সুড়ঙ্গ উন্মোচন করল ইরান ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও পৌর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ হতে পারে এআই ভিডিও

Reporter Name
  • Update Time : Monday, January 26, 2026
  • 19 Time View

গণতন্ত্র টিকে থাকে বিশ্বাসের ওপর। ভোটার  যখন বিশ্বাস করেন যে, তিনি যা দেখছেন, যা শুনছেন, তা সত্য। সেই বিশ্বাসেই তারা সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু যখন সত্য আর মিথ্যার পার্থক্য ঝাপসা হয়ে যায়। তখন গণতন্ত্রের ভিত কেঁপে ওঠে। আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সেই বিশ্বাসের জায়গাটিকেই সবচেয়ে বেশি আঘাত করছে।

একটি সুষ্ঠু নির্বাচন মানে শুধু ভোট গ্রহণ নয়। এর অর্থ হলো—ভোটার যেন যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

কিন্তু এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও বা ডিপফেক সেই সুযোগটাই কেড়ে নিচ্ছে। বাস্তবের মতো দেখতে মিথ্যা ভিডিও এখন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ছে। যাচাইয়ের সুযোগ থাকছে না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

এআই প্রযুক্তি দিয়ে এখন এমন ভিডিও বানানো যায়, যেখানে কোনো রাজনীতিককে এমন কথা বলতে দেখা যায়, যা তিনি কখনো বলেননি। এমন আচরণ করতে দেখা যায়, যা তিনি কখনো করেননি। সাধারণ মানুষের পক্ষে এসব ভিডিও সত্য না মিথ্যা—তা বোঝা প্রায় অসম্ভব।

ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হানি ফরিদ বলেছেন,

‘Deepfakes erode trust in what we see and hear.’

অর্থাৎ, ডিপফেক আমরা যা দেখি ও শুনি—তার ওপর মানুষের বিশ্বাসই নষ্ট করে দেয়।

বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে ডিপফেকের অপব্যবহার এই হুমকিকে বাস্তব করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া কিংবা ইউরোপ—সবখানেই এআই-সৃষ্ট ভুয়া কনটেন্ট ভোটারদের বিভ্রান্ত করেছে। কোথাও প্রার্থীর ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। কোথাও ভোট বর্জনের ডাক ছড়িয়েছে। কোথাও সামাজিক উত্তেজনা বেড়েছে।

বাংলাদেশেও এই ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। এখানে স্মরণ করা যেতে পারে, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গাইবান্ধা-১ আসনের এক প্রার্থীর ভুয়া ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিতে দেখা যায়। ভোটের দিন সকালের এমন ভিডিও ভোটারদের বিভ্রান্ত না করে পারে না। এটি নির্বাচনি প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে সরাসরি আঘাত করে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম সতর্ক করে বলেছে,

‘AI-generated misinformation is a severe threat to democratic processes.’

অর্থাৎ, এআই দিয়ে তৈরি অপতথ্য এখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বড় হুমকি।

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের আস্থা ভিডিও কনটেন্টে বেশি। লিখিত খবরের চেয়ে দৃশ্যমান কনটেন্ট দ্রুত বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। এই বাস্তবতা এআই অপব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

ডিপফেকের পাশাপাশি রয়েছে চিপফেক। পুরোনো ভিডিওতে ভিন্ন ক্যাপশন। বক্তব্য কেটে নতুন অর্থ দাঁড় করানো। মনগড়া উদ্ধৃতি। এসবও এখন রাজনৈতিক অপপ্রচারের নিয়মিত অস্ত্র। উন্নত প্রযুক্তি না লাগলেও ক্ষতি কম নয়।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—এই ভুয়া তথ্য অনেক সময় যাচাই ছাড়াই ছড়িয়ে পড়ছে। কখনো রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যে। কখনো মূলধারার আলোচনায়। ফলে অপতথ্য ধীরে ধীরে ‘সত্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, অপতথ্যের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য যেমন আছে, তেমনি আছে অর্থনৈতিক স্বার্থ। ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও বটনেটের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

এআই ভিডিওর সবচেয়ে বড় বিপদ হলো—এটি বিশ্বাস ভেঙে দেয়। মানুষ যখন নিশ্চিত হতে পারে না কোনটি সত্য, কোনটি মিথ্যা—তখন গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। সেই অবিশ্বাস থেকেই জন্ম নিতে পারে উত্তেজনা, সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা।

এই পরিস্থিতিতে শুধু আইন নয়, প্রয়োজন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

এক্ষেত্রে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় বাড়াতে পারলে আরও ভালো। একই সঙ্গে নাগরিকদের ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।

এখানে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। শুধু উদ্বেগ প্রকাশ বা সতর্কতা জারি যথেষ্ট নয়। এখন দরকার দৃশ্যমান, দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ। নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে, যারা রিয়েল-টাইমে ভুয়া এআই ভিডিও শনাক্ত ও অপসারণে কাজ করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি ও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। সন্দেহজনক কনটেন্ট ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা কারা করছে, তাদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য জনসমক্ষে প্রকাশ  করতে হবে।

এই পর্যায়ে এসে দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী ভোটারকে বিভ্রান্ত করতে এআই দিয়ে ভুয়া বা মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ফলে এটি কেবল নৈতিক ব্যর্থতার প্রশ্ন নয়, সরাসরি আইনি দায়িত্বের বিষয়। কমিশন যদি সময়মতো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারবে না। সতর্কতা, বিবৃতি কিংবা হটলাইনের ঘোষণা এখন আর যথেষ্ট নয়। ভুয়া এআই ভিডিও শনাক্ত, অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে নির্বাচন সুরক্ষিত থাকবে না। সুতরাং অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে এআই ভিডিও নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com