বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের সারা দেশে সংগঠনের নারী কর্মীদের ওপর প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগ করে বলেছেন, জামায়াতের নারীরা যে পরিমাণ অ্যাকটিভ, তাতে প্রতিপক্ষ মনে করছে, নারীদের বেশিরভাগ ভোট জামায়াত পাবে। এ জন্যই তারা সারা দেশে আমাদের নারীদের ওপর আক্রমণ করছে, হেনস্তা করার চেষ্টা করছে, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে সারা দেশে একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরির সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি দল, যাদের ৪৩ শতাংশ নারী। আরপিওতে ৩৩ শতাংশ নারী থাকার বিধান আছে রাজনৈতিক দলগুলোর। একমাত্র জামায়াতই এ শর্তটি পূরণ করতে পেরেছে। নারীরা আমাদের অত্যন্ত সম্মানীয় মায়ের জাত, বোনের জাত, মেয়ের জাত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে যারা বেশি বেশি চিৎকার করে নারীর অধিকার ও স্বাধীনতার কথা বলে, তারা এখন শুধু রাজনৈতিক কারণে নারীদের ওপর হামলা করছে।
তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের জিহ্বা কেটে দেওয়ার কথা বলছে, জামায়াতকে ভোট দিলে হাত নিয়ে যেতে পারবে না- এমন কথা বলছে। মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা এগুলো শুনতে পাচ্ছি। যেখানে অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান প্রতিশ্রুতি হচ্ছে- নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হলে তা দেশে এবং বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না।
নির্বাচনি সহিংসতার কিছু খণ্ডচিত্র তুলে ধরে আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, রোববার দুপুরে যশোর-২ আসনে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোটের প্রচারকালে জামায়াতের নারী নেত্রীদের ওপর যুবদলের হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটে। এতে ২ জন নারী আহত হন। ঝিকরগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কীর্তিপুরে জামায়াতের উপজেলা নারী নেত্রীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাইতে গেলে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আরাফাত রহমান কল্লোলের নেতৃত্বে সবুজ, আহনাত, সোহাগসহ ১৫-২০ জন হামলা করে আহত করে এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করে। ওই সময় তারা ভ্যানিটি ব্যাগও ছিনিয়ে নেয়।
চুয়াডাঙ্গায় রোববার বেলা সাড়ে ৩টায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে জামায়াতে ইসলামী ও তার অঙ্গসংগঠনের নারী নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছিলেন। এ সময় বিএনপির কয়েকজন নারী কর্মী প্রথমে তাদের বাধা দেন এবং হেনস্তা করেন। পরে বিএনপির পুরুষ কর্মীরাও ঘটনাস্থলে এসে জামায়াতের নারী কর্মীদের গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ ঘটনায় জামায়াতের পাঁচজন নারী আহত হন।
কুমিল্লায় নির্বাচনি প্রচারের সময় জামায়াতের নারীকর্মীদের প্রকাশ্যে ঘিরে ধরে হেনস্তা করা হয়। নারীদের হিজাব-নিকাব খুলে নেওয়া হয়।
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিএনপি কর্মীরা জামায়াতের নারীকর্মীদের ওপর হামলা করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। লালমনিরহাটে জামায়াতের নারীকর্মীদের হিজাব নিয়ে টানাহেঁচড়া করে এবং হিজাব খুলে নেয় বিএনপি কর্মীরা। ঘটনার ভিডিও ধারণ করলে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। জামায়াতের পুরুষ সদস্যদের বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বে রুমে ঢুকিয়ে ব্যাপক মারধর করে। চারটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়, একটি ল্যাপটপ ভাঙচুর করা হয়। প্রশাসনের সামনে এ ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল।
ভোলার লালমোহনের রামগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতের নারী কর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও গালগাল করেন স্থানীয় নুরনবীর ছেলে রুবেল। এ ছাড়া রুবেল লাঞ্ছিত নারী কর্মীর স্বামী জসিম উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। সন্ধ্যার দিকে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বাজার এলাকায় জড়ো হন। একপর্যায়ে ১০ দলীয় জোটের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে বিডিপির (বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি) অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়ে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন।
ভোলার চরফ্যাশনে পছন্দের প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনি প্রচারে নামায় হাজেরা বেগম নামে এক নারীকে মারধর করেন স্থানীয় যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিন। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে ওই নারীর ৯ মাসের অন্তঃসত্তা মেয়েকেও মারধর ও পেটে লাথি মারা হয়। একপর্যায়ে শাহাবুদ্দিন ওই নারীর কান ছিঁড়ে স্বর্ণালংকার নিয়ে যান এবং কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
জামায়াত নারীরা যাতে নির্বাচনি কাজ না করতে পারে, সে জন্য হুমকি দিয়েছেন বিএনপি নেত্রী ও বিএনপি এমপি প্রার্থীর স্ত্রী এবং বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া। পাপিয়া তার বক্তব্যে বলেন, ‘মা- বোনদের উদ্দেশে বলছি, ১২ ফেব্র“য়ারি নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রীসংস্থার কর্মীরা কেউ বাসায় গেলে ৯৯৯-এ কল দিয়ে ধরিয়ে দেবেন, যাতে বয়ান দেওয়ার আর সুযোগ না পান।’
এ ছাড়া মেহেরপুরের গহরপুর, কেরানীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে নারী কর্মীরা আহত হয়েছেন, বাধার মুখে পড়েছেন, কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেননি।