ভোটাধিকার নিয়ে সচেতন ও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের নারীরা। ধানের শীষের প্রচারে নারী ভোটারের উপস্থিতি লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। কারণ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই আসনের নারী ভোটারের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
স্থানীয়রা জানান, হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় এবার নারী ভোটারের মধ্যে বেশ উৎসাহ বিরাজ করছে। বিশেষ করে বিএনপিপ্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সলের ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারে নারী ভোটারের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিন নারী ভোটারের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট নিয়ে তাদের তেমন আগ্রহ ছিল না। অথচ চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার নারী ভোটার রয়েছেন, যা এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, এই বিশাল নারী ভোটারগোষ্ঠীকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতেই তারা উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা ও চা বাগানভিত্তিক প্রচার চালাচ্ছেন। এর ফলে নারীরা এখন নিজেদের নাগরিক অধিকার সম্পর্কে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। এতে শুধু একটি দলের লাভ নয়; বরং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে।
বুধবার চুনারুঘাট উপজেলার হিমালিয়া, চন্ডী, চানপুর ও রামগঙ্গা, আমু, সাতছড়ি চা বাগানে ধানের শীষের প্রচারে বিপুলসংখ্যক নারী ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এ সময় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক নানা সমস্যা নিয়ে সরাসরি কথা বলেন তারা। অনেক নারী প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজেদের দাবি তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও চা শ্রমিক নেত্রী খাইরুন আক্তারের ভাষ্য, এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে নারীজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, তা ইতিবাচক। নারীরা এখন শুধু ভোট দেওয়ার বিষয়েই নয়, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানছেন এবং সাহসের সঙ্গে তা জানাতেও পারছেন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, ২৩টি চা বাগানের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে নারীসমাজ অবহেলিত। এবারের নির্বাচনে বিএনপি নেতা ও শিল্পপতি সৈয়দ শাফকাত আহমেদ এবং শিল্পপতি সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ চা বাগানের নারীসমাজকে জাগিয়ে তুলেছেন। তিনি বলেন, আগে ভোট এলেও নারীকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হতো না। ফলে অনেক সময় দেখা যেত, সবাই ভোটকেন্দ্রে যাননি। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। তাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। যারা ভোট চাইতে আসছেন, তাদের সঙ্গে নারীরা নিজেদের অধিকার নিয়ে সরাসরি কথা বলতে পারছেন। এটি দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য একটি শুভ লক্ষণ।
নোয়াপাড়া ইউপি সদস্য শ্যামলী দেব জানান, নারী ভোটারকে সচেতন করে তুলেছেন তারা। তাদের মধ্যে নাগরিক বোধ সৃষ্টি হয়েছে।
শিল্পপতি সৈয়দ শাফকাত আহমেদ ও সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, কোনো মানুষ বা জনগোষ্ঠীকে অবহেলা করা ঠিক নয়। চা বাগানের লোকজন রাষ্ট্র ও সরকারের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারেন না। তাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়। তাদের একটু দেখভাল করা এবং নতুন প্রজন্মকে কর্মমুখী শিক্ষা দিতে পারলে তারা দেশের জন্য অমূল্য জনসম্পদে পরিণত হবে। এ কারণেই এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চা বাগানের নারীসমাজকে ভোটদানে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আগে যেখানে ভোটের প্রতি অনীহা ছিল, এবার সেখানে ভোট দিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন তারা।