কিশোরগঞ্জের কৃষিকে শিল্পে পরিণত করা হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মাদকসম্রাটদের বুড়িগঙ্গার পানিতে চুবানো হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘কিশোরগঞ্জ শিল্পভিত্তিক জেলা নয়, এটি একটি কৃষিনির্ভর জেলা। তাই কৃষিকে কেন্দ্র করেই উন্নয়নের পরিকল্পনা নিতে হবে। আমরা কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ কৃষিকে শিল্পে পরিণত করবো।’
নদ-নদী প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আজ নদীগুলোকে কার্যত খুন করা হয়েছে। হাওরের বিলগুলোও ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা এসব বিষয়ে উদ্যোগ নেব। নদীর জীবন ফিরে এলে বাংলাদেশের জীবনও ফিরে আসবে। তাই নদীকে কেন্দ্র করেই আমাদের উন্নয়ন ও সংস্কারের কাজ শুরু হবে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন এত টাকা কোথায় পাওয়া যাবে। দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে, সেই অর্থ ফেরত আনা গেলে উন্নয়ন সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, এখন আর কোনো দুর্বৃত্ত কারো ভোটে হাত দিতে পারবে না। কেউ কোনো ক্ষতি করতে এলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘চোরাই পথে আর কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।’
উন্নয়ন পিছিয়ে থাকা অঞ্চল নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘জাতি পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের পথেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’
জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করতে পারলে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশে হাত পাতা কেউ থাকবে না। যারা কাজ করতে পারে না, তাদের দায়িত্ব সরকার নেবে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় মায়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয় এবং আমি বরাবরই এর প্রতিবাদ করে এসেছি। সেই কারণেই কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে লেগে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘এরই ধারাবাহিকতায় আমার এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সেখান থেকে অত্যন্ত নোংরা ও আপত্তিকর বার্তা ছড়ানো হয়। আমাদের আইটি টিম ও সাইবার টিম দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অ্যাকাউন্টটি রিকভারি করেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে কারা ও কোথা থেকে এই কাজ করেছে, তা শনাক্ত করেছে। আশ্চর্য ও দুঃখজনক বিষয় হলো সব তথ্য স্পষ্টভাবে সামনে আসার পরও একটি রাজনৈতিক দল এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনো রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে।’
তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেন— জামায়াতের সরকার হবে বা ইসলামী দলের সরকার হবে। আমরা জামায়াতের বিজয় চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।’