জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সম্পূর্ণভাবে সরকার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পিতবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সভাপতি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর থাকা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যাদের জাদুঘর নিয়ে এক্সপার্টাইজ আছে, তাদের এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বগুলো দেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতাতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর, এটা কিন্তু কোনো শাখা জাদুঘর না। এটা একটি স্বতন্ত্র বিশেষায়িত জাদুঘর। যে জাদুঘর গঠিত হওয়ার সময় সকল পক্ষের মতামত নেওয়া হয়েছে। সেই জাদুঘরের স্মৃতিকথাতে শুধু গণঅভ্যুত্থানের নয়, গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের স্মৃতিগুলো নেওয়া হয়েছে। সবকিছু সেখানে আছে, কিন্তু এখন যদি মন্ত্রীকে সেখানে বসানো হয় প্রথমত রেওয়াজ ভঙ্গ করা হয়। আমরা বর্তমান সরকারের যে প্রবণতা দেখছি বাংলাদেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে দলীয়কারণ করা। এটা সেটারই একটা ধারাবাহিকতা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে দলীয়করণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠাগুলোকে দলীয়করণ করা হয়েছে। এমনকি ক্রিকেট বোর্ডকেও দলীয়করণ, পরিবারকরণ করা হয়ে গেছে। আমাদের মন্ত্রীদের সন্তানরা সেই ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য হয়ে গিয়েছে। যেখানে জুলাই জাদুঘরের সভাপতি কেন মন্ত্রীকে হতে হবে। সেটা তো মন্ত্রণালয়ের অধীনেই একটি প্রতিষ্ঠান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সবাই একবাক্যে স্বীকার করি, জুলাই অভ্যুত্থানকে। এই জাদুঘর পরিচালনা করার ক্ষেত্রে এই জিনিসটা মানা উচিত। সরকার সম্পূর্ণভাবে এটাকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে এই বিল পাসের মাধ্যমে। আমরা আবারও আহ্বান জানাবো বিলটি বাদ দিয়ে যেভাবে ছিল সেভাবেই যেন রেখে বিলটি আবার পাস করা হয়। তা না হলে আমাদের এখানে থাকার দরকার নেই। এ জন্য আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড়ায় না। সরকার তার দল ও তাদের নিজেদের গুণ্ডাবাহিনী দিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে।