সৌদি পরিবহন সাধারণ কর্তৃপক্ষ ও মদিনা অঞ্চল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় পবিত্র মসজিদে কুবার অভ্যন্তরীণ চত্বরে চালকবিহীন ‘রোবোবাস’ শাটল বাস সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু হয়েছে।
এই উদ্যোগটি দর্শনার্থী ও মুসল্লিদের জন্য আধুনিক, নিরাপদ ও উদ্ভাবনী পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার একটি প্রকল্পের অংশ। একই সঙ্গে এটি টেকসই পরিবহন ও ডিজিটাল রূপান্তরের দিকে সৌদি আরবের অগ্রযাত্রার সাক্ষী।
আরব গণমাধ্যম সৌদি গেজেটের তথ্য মতে, চালকবিহীন এই বাসে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ২০ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবে।
বাসটি অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দ্বারা পরিচালিত। এতে আধুনিক সেন্সর ও উচ্চ রেজুলেশনের ক্যামেরা সংযুক্ত রয়েছে, যা মসজিদ এলাকার ভেতরে যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেবাটির কার্যকারিতা যাচাই করা, পরিচালন দক্ষতা ও সেবার মান মূল্যায়ন করা এবং ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সৌদি শহরগুলোতে চালকবিহীন যানবাহনের ব্যবহার আরো সম্প্রসারণের পথ তৈরি হবে।
বাসটির রুট অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি কুবা মসজিদের অভ্যন্তরীণ চত্বরে প্রায় ৭০০ মিটার পথ অতিক্রম করবে। আধুনিক ও সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এই পরিবহনব্যবস্থা দর্শনার্থী ও মুসল্লিদের চলাচল সহজ করবে। নির্ধারিত স্থান থেকে বাস যাত্রা শুরু করবে, যা নারী ও পুরুষ দর্শনার্থীদের প্রবেশপথকে সংযুক্ত করবে।
পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বাসটি পূর্বনির্ধারিত গলফ কার্ট রুট কঠোরভাবে অনুসরণ করবে।
৬০ দিনের এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে আশপাশের অবকাঠামোর সঙ্গে যানটির সমন্বয় পরীক্ষা করা হবে এবং উচ্চ রেজুলেশনের ডিজিটাল মানচিত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর উদ্দেশ্য হলো বৃহৎ পরিসরে চালুর আগে স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তিকে বাস্তব পরিচালন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
এই প্রকল্প ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে সৌদি আরবের বিনিয়োগ ও সৌদি ভিশন ২০৩০-এর ডিজিটাল রূপান্তর এবং স্মার্ট পরিবহনব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যের প্রতি দেশটির প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
এ ছাড়া ২০২৬ সালকে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বছর’ ঘোষণা করায় এই প্রকল্প আরো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
এর মাধ্যমে স্মার্ট পরিবহন প্রযুক্তির স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রয়োগে সৌদি আরব তার নেতৃত্ব আরো শক্তিশালী করতে চায় এবং মদিনার বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক পরিবহন পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, ‘রোবোবাস’ হলো এল-৪ পর্যায়ের স্বয়ংক্রিয়, বৈদ্যুতিক ও চালকবিহীন মিনিবাস, যা গণপরিবহনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি কোনো মানবচালক ছাড়াই চলতে সক্ষম। নগর পরিবহনকে আরো গতিশীল ও কার্যকর করতে এসব যানবাহনে অত্যাধুনিক ‘লাইডার’ (এটি লেজার আলোর মাধ্যমে চারপাশ স্ক্যান করে গাড়ির আশপাশের রাস্তা, মানুষ, দেয়াল, গাড়ি বা অন্য বস্তুর দূরত্ব ও অবস্থান বুঝতে পারে), ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।