ইরানের রাজধানী তেহরান প্রদেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিষয়ক উপ-গভর্নর জানিয়েছেন যে, ইরানের জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে বিদায় অনুষ্ঠান বুধবার রাতে রাজধানীর ইনকিলাব স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার রাতে একই সময়ে ‘গৌরবময় পারস্য জাতির সমাবেশ’-ও সেখানে আয়োজন করা হয়।
এর আগে সাইয়েদ কামাল সাদাতেএক ঘোষণা জানান যে, এই কমিশন ক্রীড়া দলগুলোর সমর্থন, ক্রীড়া সংস্কৃতির উন্নয়ন, সামাজিক সংহতি ও সামাজিক আনন্দ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে।
তিনি বলেন, তেহরান প্রদেশ ক্রীড়া দলগুলোর সমর্থন, ক্রীড়া সংস্কৃতি উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য জোরদার এবং সামাজিক আনন্দ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং ক্রীড়া ইভেন্টগুলোকে সামাজিক পুঁজি শক্তিশালী করার জন্য ব্যবহার করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, ক্রীড়া শুধুমাত্র প্রতিযোগিতামূলক একটি বিষয় নয়, বরং এটি সামাজিক ঐক্য ও জাতীয় সংহতি প্রদর্শনের একটি মাধ্যম হতে পারে। এই কারণে বিশ্বকাপে জাতীয় দলের অংশগ্রহণ উপলক্ষে ইনকিলাব স্কয়ারে বুধবার রাতে বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং সেখানে ইরানের বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সমর্থকদের উল্লাস ও উন্মাদনায় কোনো কমতি ছিল না।
অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়েরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশপ্রেমসূচক বক্তব্য দেন এবং দর্শকের অভিবাদনের জবাব দেন। একই সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ইরান ফুটবল দলের নতুন জার্সিও উন্মোচন করা হয়। আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) সভাপতি মেহেদি তাজ দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘গত চারটি বিশ্বকাপ অভিযানের মধ্যে এটিই ছিল ফুটবলারদের জন্য সবচেয়ে বড় এবং সেরা বিদায় সংবর্ধনা।’
ৎফুল্ল জনতার উদ্দেশে এফএফআইআরআই সভাপতি বলেন, ‘খেলোয়াড়েরা জনগণের সঙ্গেই আছে। আর সাধারণ মানুষ দেশের মর্যাদা, সম্মান ও শক্তির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। ফলাফল যা-ই হোক না কেন, সেখানে যেন ইরানের পতাকা সমুন্নত থাকে এবং সম্মান রক্ষা করা হয়।’
কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানজুড়ে বিমান হামলা শুরু করার পর আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দলটির বিশ্বকাপযাত্রা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
তেহরান প্রদেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিষয়ক উপ-গভর্নর আরও বলেন, এই অনুষ্ঠান এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ইরানের জনগণ টানা ৭০ রাত ধরে এই স্থানে উপস্থিত রয়েছে, যা এই ক্রীড়া ও জাতীয় অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত গুরুত্ব যোগ করবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে আয়োজনের জন্য নিরাপত্তা, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ক্রীড়া ইভেন্ট জাতীয় পরিচয় শক্তিশালী করা, সামাজিক আশা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ঐক্য প্রদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই জনসম্পৃক্ততা ব্যবহার করে এ ধরনের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আরও ভালোভাবে আয়োজনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন নির্বাহী সংস্থার অংশগ্রহণে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি জোরদার করা সমাজে জনগণের অংশগ্রহণ এবং সামাজিক আনন্দ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
সূত্র: ফার্স নিউজ এজেন্সি