কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের মধ্যে আবারও বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির অবস্থান ফিরে পেয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। বাজারমূল্যে এনভিডিয়াকে ছাড়িয়ে এক বছরের বেশি সময় পর শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
সর্বশেষ বাজারমূল্য অনুযায়ী, অ্যাপলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৮৮ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে এনভিডিয়ার বাজারমূল্য ৪ দশমিক ৮৬ ট্রিলিয়ন ডলার। এদিন এনভিডিয়ার বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়, যার ফলে শীর্ষস্থান হারায় প্রতিষ্ঠানটি।
গত বছরের অক্টোবরে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য অতিক্রম করে এনভিডিয়া বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এআই-নির্ভর বাজারে বিনিয়োগকারীদের অগ্রাধিকার বদলে যাওয়ায় পরিস্থিতি পাল্টেছে।
গত মাসে অ্যাপল তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ডিজিটাল সহকারী সিরির নতুন সংস্করণ উন্মোচন করে। নতুন সংস্করণটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে, ইন্টারনেট থেকে তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম এবং আগের তুলনায় আরও জটিল কাজ সম্পাদন করতে পারে।
‘ফাউন্ডার ইটিএফস’ এর প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল মোনাঘান বলেন, আগে বিনিয়োগকারীরা এআই মডেল নির্মাতা ও চিপ কোম্পানিগুলোর প্রতি বেশি আগ্রহ দেখালেও এখন তারা এমন প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছেন, যারা এআই প্রযুক্তিকে ব্যবহারকারীর জন্য কার্যকর সেবা ও বাণিজ্যিক সুবিধায় রূপ দিতে পারছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, অ্যাপল দীর্ঘদিন এআই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকলেও আইফোন ব্যবহারকারীদের বিপুল ব্যক্তিগত তথ্য ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হয়ে উঠতে পারে।
আগামী ৩০ জুলাই অ্যাপলের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশের কথা রয়েছে। এর আগে কোম্পানিটি চলতি প্রান্তিকে ১৪ থেকে ১৭ শতাংশ বিক্রয় প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল।
এদিকে সেপ্টেম্বরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন বর্তমান হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রধান জন টার্নাসের কাছে।
অন্যদিকে সেমিকন্ডাক্টর খাতে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় এনভিডিয়ার ওপর চাপ বাড়ছে। নতুন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উত্থান বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে অ্যাপলের বাজারমূল্য বাড়লেও সামগ্রিক শেয়ারবাজারে ছিল নিম্নমুখী প্রবণতা। প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক ১ দশমিক ৬ শতাংশ, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ডাও জোন্স সূচক ০ দশমিক ২৫ শতাংশ কমেছে।