মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সেমিনারে তিনি সতর্ক করে বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি আরাকান আর্মির দৃষ্টিভঙ্গি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চেয়েও বেশি কঠোর ও বৈরী। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে বাংলাদেশ এখন বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরের ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে এবং সেখানে অন্তত ১১টি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা ও মাদক কারবারের মতো অপরাধ বাড়ছে। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দুই হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজছে। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা জানান, চীন ও ভারতের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামের মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকারের সাম্প্রতিক প্রত্যাবাসন তালিকা ঘোষণার উদ্যোগটি আন্তর্জাতিক চাপ এড়ানোর একটি কৌশল মাত্র। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি জানান, সঠিক কূটনৈতিক দূরদর্শিতা ও দৃঢ়তা থাকলে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা সম্ভব। একইসঙ্গে ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আসিয়ান ও ওআইসি-কে সঙ্গে নিয়ে একটি কার্যকর আঞ্চলিক কাঠামো গঠনের ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।