October 30, 2026, 2:46 am
সর্বশেষ সংবাদ:
বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় তিন বছর পেছাল দুনিয়ার মোহে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান হায়াত: সালাহউদ্দীন নানুপুরী পেট্রাপোলে পণ্যবাহী ট্রাকের জট, বেনাপোলে প্রবেশে বিলম্বের অভিযোগ ইসরায়েলের নির্বাচনে বাইরের হস্তক্ষেপের তদন্ত হচ্ছে পাকিস্তান থেকে আনা ১৫০ টন তামাক ঘিরে সন্দেহ, ক্ষতিকর রাসায়নিক আছে কি না, পরীক্ষা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে সিলেটে ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর নিবন্ধন খুবির ৩৭ দফা দাবির দুই বছর, বাস্তবায়ন হয়নি অধিকাংশই মেসিকে পেছনে ফেলে ‘ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম’ জয় রোনালদোর কালোবাজারে সার বিক্রির সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা আটক আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে চাপের মুখে হোয়াইট হাউস

পলাশবাড়ীতে এডিপির পৌনে ৩ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম তদন্তে কমিটি

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, October 28, 2026
  • 21 Time View

জাতীয় ডেস্ক: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চলতি অর্থবছরে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত ৩৪টি প্রকল্পের কাজ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। কাজ না করেই বিল তুলে নেওয়া এবং কাগজে-কলমে প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটিকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সায়্যেদুল মোফাচ্ছালিন এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান ও জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান। এই কমিটি বিশেষ করে উপজেলা পরিষদের সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর আনোয়ার হোসেন খোকন এবং অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আর্থিক অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখবে। প্রকল্প সভাপতি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে তাঁদের অন্ধকারে রেখে এবং ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা ঘুরে নথিপত্র এবং বাস্তব কাজের মধ্যে ব্যাপক অসংগতি দেখতে পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের পেছনের সিসি ঢালাই কাজ, স্থানীয় সংসদ সদস্যের কার্যালয়ের টয়লেট সংস্কার এবং আসবাবপত্র কেনার নামে লাখ লাখ টাকা নয়ছয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদ উন্নয়ন, একটি মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসার বরাদ্দ এবং শিউলি ভবন সংস্কারকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এলাকাবাসী। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণের বরাদ্দেও ব্যাপক অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে, যেখানে অনেক প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের সামগ্রীই হাতে পায়নি বলে জানিয়েছে।

বেতকাপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও এক প্রকল্প সভাপতির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত পুকুর রক্ষায় সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি প্রভাবশালী চক্রের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট সংস্কার এবং সিসি ঢালাইয়ের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই সম্পূর্ণ অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দাবি করছেন। এদিকে সদ্য বিদায়ী উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ দাবি করেছেন যে তিনি অধিকাংশ কাজ পরিদর্শন করেই বিল প্রদান করেছিলেন, তবে দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে কিছু কাজ দেখা সম্ভব হয়নি। সার্বিক বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়মের সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com