August 25, 2026, 10:54 am
সর্বশেষ সংবাদ:
ভূরুঙ্গামারীতে লুট হওয়া সারের ১১৫ বস্তা উদ্ধার ভারতে ফের রাস্তায় নামার ঘোষণা তেলাপোকা পার্টির সেদিন সালাম তালুকদারের সেই সাহস দেখেছি: খন্দকার মোশাররফ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাজনৈতিক সমাধানের তাগিদ অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান ঘাটতি দূর করার আহ্বান শামা ওবায়েদের অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এমপি আব্দুল গফুর প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সংসদীয় দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বাণিজ্যিক কোচিংয়ে বিচারকদের সম্পৃক্ততায় সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা মাদরাসা শিক্ষায় আসছে বড় পরিবর্তন, কর্মসংস্থানমুখী হবে কারিকুলাম এক শতাংশও বাস্তবায়ন হয়নি এডিপি, ১০ মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি শূন্য

ইরানে মার্কিন অভিযান আসলে দীর্ঘ সংঘাতের দিকে যাত্রা

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, July 21, 2026
  • 78 Time View

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতির বড় ফাঁকফোকরগুলো সামনে নিয়ে এসেছে। যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান তীব্রতা এবং একের পর এক মার্কিন সেনার মৃত্যু সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। কিন্তু এই সামরিক পদক্ষেপের পেছনে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বা কৌশলগত লক্ষ্য আসলে কী, তা এখনও ধোঁয়াশায় ঢাকা।

সোমবার সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধের চূড়ান্ত লক্ষ্যের অস্পষ্টতা ট্রাম্পের নীতিকে এক বিপজ্জনক ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের চক্রে ঠেলে দিচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাম্পের জেদ
এই দফায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামরিক তৎপরতার কারণ মূলত হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের আধিপত্য হজম করতে না পারা। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে থাকা ট্রাম্পের জন্য ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে পরাজয়। কিন্তু এবারের হামলা কেন আগেরবারের চেয়ে সফল হবে, সে বিষয়ে মার্কিন জনগণকে কোনো স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি তিনি।

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নাকি অনন্ত যুদ্ধ?
ট্রাম্প বরাবরই মধ্যপ্রাচ্যের ‘অনন্ত যুদ্ধ’ থেকে মার্কিন সেনাদের দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতি হয়তো সেই স্তরে পৌঁছায়নি, তবে এটি কোনোভাবেই সীমিত বা সুনির্দিষ্ট মেয়াদের অভিযান নয়। ইরানের শাসন ব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন না এলে শুধু বিমান হামলা চালিয়ে তাদের দুর্বল করা অসম্ভব। এ অবস্থায় ট্রাম্প সংঘাত অব্যাহত রেখে আসলে কোন লক্ষ্য অর্জন করতে চাচ্ছেন, তাও স্পষ্ট নয়।

কৌশলগত অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক উদাসীনতা
এই দফায় মার্কিন হামলাকে অনেকেই ট্রাম্পের নীতিগত ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। যুদ্ধের আগে যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ছিল, তা এখন অবরুদ্ধ। ট্রাম্প যদি হরমুজকে আগের অবস্থায় আনতে না পারেন, তবে এটি তাঁর মেয়াদের সবচেয়ে বড় কৌশলগত ভুল হিসেবে গণ্য হবে।

ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক
জর্ডান ও উত্তর ইরাকে সাম্প্রতিক হামলায় মার্কিন সেনাদের মৃত্যু ওয়াশিংটনে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও এই প্রাণহানির সংখ্যা আফগান বা ইরাক যুদ্ধের তুলনায় কম, তবুও প্রতিটি মৃত্যু এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উসকে দেয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ইরান যেভাবে বিশ্ব বাণিজ্যকে জিম্মি করছে, তাদের এই ক্ষমতাকে দুর্বল করা এবং দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। কিন্তু রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের কাছ থেকে কোনো আসন্ন হুমকি না থাকা সত্ত্বেও এই যুদ্ধ শুরু করে ট্রাম্প নিজেই একটি দুষ্টচক্রে জড়িয়ে পড়েছেন।

বের হওয়ার উপায় আছে কি?
এই জটিল পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার কোনো সহজ রাস্তা মার্কিন প্রশাসনের সামনে নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। স্টিভেন কলিনসনের মতে, হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে হয়তো সাময়িকভাবে ইরানকে চাপে ফেলা যাবে, কিন্তু ড্রোনের এই যুগে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ অবস্থায় রাজনৈতিক চাপে ট্রাম্প যদি পিছু হটেন, তাহলে তেহরান তাদের অস্তিত্ব রক্ষার অজুহাতে আরও স্বৈরাচারী পদক্ষেপ নিতে পারে। আর কূটনৈতিকভাবেও ইরান কোনো ছাড় দেবে বলে মনে হচ্ছে না।

অর্থাৎ, স্পষ্ট ও দূরদর্শী কোনো লক্ষ্য ছাড়া শুধু তাৎক্ষণিক উত্তেজনা বৃদ্ধির এই মার্কিন কৌশল প্রমাণ করে, ট্রাম্পের হাতে পরাজয় বরণ করা অথবা অনন্ত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কোনো বিকল্প নেই। সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের খুব ভালো সামরিক সক্ষমতা না থাকলেও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধটি তারা বেশ ভালোভাবেই লড়ছে। এই পরিস্থিতি অতীতের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতগুলোর কথাই মনে করিয়ে দেয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com