ইরানের সঙ্গে চলমান সংকট নিরসনে ওয়াশিংটনের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে আর খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে রাজি নন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আর খুব বেশি ধৈর্য ধরব না। তাদের (ইরান) দ্রুত একটি চুক্তিতে আসা উচিত।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে হোয়াইট হাউসের বড় কোনো সিদ্ধান্তের আভাস হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাতের পর বর্তমানে সেখানে একটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই চীন সফর করছেন ট্রাম্প।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও ইরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক সমাধান চান। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ‘প্রেসিডেন্ট শি চান একটি চুক্তি হোক এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হোক।’
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বলেছি, তারা (ইরান) যেন পারমাণবিক অস্ত্র না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে।’ এই বিষয়ে চীনা প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ট্রাম্প জানান, শি জিনপিং সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও তিনি মনে করেন যে চীন এই বিষয়ে একমত।
উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলে আসছে। অন্যদিকে চীন মধ্যপ্রাচ্যে সংলাপের মাধ্যমে শান্তি ফেরানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, মূল লক্ষ্য অর্জনের চেয়ে একে সংবাদমাধ্যমের কাছে বড় করে দেখানোই অনেকের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কড়া বার্তা তেহরানের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর স্থিতিশীলতাকে আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।