October 22, 2026, 12:32 pm

একবার সেরে ওঠার পর আবার আক্রান্ত, ক্যানসারের সঙ্গে লড়েও থেমে নেই নাজমুলের গবেষণা

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, October 22, 2026
  • 14 Time View

শিক্ষা ডেস্ক: মরণব্যাধি ক্যানসারকে পরাজিত করার পথে বারবার হোঁচট খেলেও থেমে থাকেননি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান। গত কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত কঠিন শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে গেছেন তিনি। কিন্তু এই প্রতিকূলতা তাঁর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন এবং গবেষণার অদম্য স্পৃহাকে বিন্দুমাত্র দমাতে পারেনি। বর্তমানে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

কুমিল্লার কোটবাড়ীর সাধারণ এক পরিবারে বেড়ে ওঠা নাজমুল পড়াশোনায় সবসময় মনোযোগী ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর কিছুদিন করপোরেট চাকরিও করেছিলেন তিনি। তবে গবেষণার প্রতি গভীর টানের কারণে চাকরি ছেড়ে উচ্চশিক্ষার পথ বেছে নেন এবং মালয়েশিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি শুরু করেন। অণুজীবের জিনগত পরিবর্তন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর কাজের স্বীকৃতি মিলতে শুরু করে।

পিএইচডির শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর ঠিক আগমুহূর্তে তাঁর শরীরে প্রথমবার পাকস্থলীর ক্যানসার ধরা পড়ে। দীর্ঘ চিকিৎসায় সেরে ওঠার পর তিনি ডিগ্রি অর্জন করলেও চলতি বছরে এসে রোগটি চতুর্থ পর্যায়ে আবার ফিরে আসে। এই গুরুতর অসুস্থতার মধ্যেও তিনি থেমে থাকেননি; বরং যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ডিয়াগো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সম্প্রতি মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা অনুদানও লাভ করেছেন।

নাজমুলের এই গবেষণার মূল বিষয় হলো অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু বা অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের বিকল্প সমাধান খোঁজা। বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ব্যাকটেরিয়ার জৈবিক বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে সংক্রমণ মোকাবিলার নতুন কৌশল উদ্ভাবন করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন এই মেধাবী গবেষক।

নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নাজমুল কখনো হতাশ হননি বরং মানুষের কল্যাণে অবদান রাখাকেই নিজের জীবনের ব্রত হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাঁর এই নাছোড়বান্দা মনোভাব ও একাগ্রতার প্রশংসা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। চরম দুর্দশার মাঝেও নতুন পথ খুঁজে নেওয়ার এই লড়াই তরুণ প্রজন্মকে এক অনন্য প্রেরণা জুগিয়ে চলেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com