জাতীয় ডেস্ক: কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সারের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য নতুন ডিলার নিয়োগ করা হলেও তা নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ডিলার তালিকার গভীর বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, অনুমোদিত ৫৭ জন ডিলারের মধ্যে অন্তত ৪৫ জনই সরাসরি রাজনৈতিক দল বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী বা সমর্থক। ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বহু পুরোনো ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী নতুন তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ পড়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে যে, নতুন এই ডিলার তালিকায় যাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাঁদের সিংহভাগের কাছে সার সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় গুদাম বা অবকাঠামো নেই। এমনকি তাঁদের অনেকেরই সার ব্যবসার লাইসেন্স বা পূর্ববর্তী কোনো অভিজ্ঞতা না থাকার পরও এই গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের নীতিমালা ও ডিলার সিলেকশনের পূর্বশর্তগুলোকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিজ্ঞতাহীন ও গুদামহীন ব্যক্তিদের হাতে সারের মতো স্পর্শকাতর পণ্যের ডিস্ট্রিবিউশন চলে যাওয়ায় ভবিষ্যতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে।
প্রকৃত ও বর্ষীয়ান সার ব্যবসায়ীরা এই অবিচারমূলক সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে কৃষকদের সেবা দিয়ে এবং নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করেও তাঁরা আজ রাজনৈতিক ডিলারদের আগ্রাসনের শিকার হয়েছেন। পুরোনো ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করায় ডিলারশিপ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের ব্যবসার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া না হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সামগ্রিক কৃষিখাতে।
কৃষি উপকরণ সরবরাহের মতো একটি সংবেদনশীল খাতে এ ধরনের রাজনৈতিকীকরণ রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সংশোধনী আনার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। অন্যথায় মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সময়মতো সার প্রাপ্তি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। সাধারণ কৃষক ও বঞ্চিত ব্যবসায়ীরা এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যাতে এই বিতর্কিত তালিকা বাতিল করে একটি স্বচ্ছ ও নীতিমালা সম্মত ডিলার তালিকা প্রস্তুত করা হয়।