দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের নতুন সরকারি উদ্যোগের আভাসে দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনপদ। ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট কয়লাখনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে তিন ব্যক্তি নিহত হন। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ছয় দফা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে বিকল্প হিসেবে ফুলবাড়ীতে পুনরায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের প্রসঙ্গ উঠে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আন্দোলনকারী নেতাদের দাবি, ২০০৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ছয় দফা চুক্তি আজও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তারা মনে করছেন, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, বসতভিটা ও প্রাকৃতিক পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে স্থানীয়রা ইতিমধ্যে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন এবং এই উদ্যোগ নেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দীর্ঘ দুই দশকেও হত্যার বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা যেন জনবসতি ও পরিবেশের বিনিময়ে না হয়। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ স্থানীয়দের সম্মতি ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, সরকারের নতুন এই নীতিগত অবস্থানের প্রেক্ষিতে ফুলবাড়ীবাসীর পুরোনো ক্ষতের উপশম হয় নাকি সংঘাতের পথ প্রশস্ত হয়।