গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়ায় চাঁদাবাজবিরোধী মিছিলের প্রস্তুতিকালে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। তিনি অবিলম্বে ভিডিও ফুটেজ দেখে এই হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান, অন্যথায় ব্যবসায়ী সমাজ পুলিশের বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ব্যবসায়ী কবিরসহ অন্যদের দেখতে গিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই দাবি জানান।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “খুনি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা দেশ ও জাতির শত্রু; তাদের দলীয় কোনো পরিচয় থাকতে পারে না। যারা খুনি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তারা দেশেরও শত্রু।”
বিকেল ৫টায় ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা চালিয়ে ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার পরও এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলে চাঁদাবাজদের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর পুলিশের নীরব ভূমিকা সন্দেহজনক। তিনি বলেন, পুলিশের ভূমিকা দেখে মনে হয় পুলিশ জনগণের জন্য নয়, বরং সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের জন্য কাজ করছে।
ডালিম, টিটো, ফারুক, স্বপন ও রনজুর নেতৃত্বে ওই হামলা চালানো হয়েছে দাবি করে এমপি বুলবুল বলেন, তারা ব্যবসায়ী কবিরকে মারাত্মকভাবে ছুরিকাঘাত করেছে, তার অপারেশনের প্রস্তুতি চলছিল। এছাড়া গুরুতর আহত এনামুল, ওমর ফারুক, সুলতান উদ্দিন, পারভেজসহ অন্যরা বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার সঙ্গে কোন কোন চাঁদাবাজ জড়িত এবং কোন দলের কে জড়িত পুলিশ সবই জানে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনতিবিলম্বে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার না করলে ব্যবসায়ী সমাজ পুলিশের বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে পারে।
বুলবুল বলেন, জুলাইয়ের চেতনায় ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ আছে। খুনি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে যেকোনো সময় ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে যেতে পারে। তাই সরকারের উচিত, নিজের স্বার্থে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করা। জিরো টলারেন্স নীতিতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ দমন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রেস ব্রিফিংকালে জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন ও ড. আব্দুল মান্নান, দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান, সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, শাহবাগ পশ্চিম থানা আমির অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক প্রমুখ।























