October 14, 2026, 10:45 am
সর্বশেষ সংবাদ:
৬০ বছর বয়সে এসে সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন সালমান খান সরকার আমার পক্ষে, ক্যাম্পাসে ফিরবো না এই শর্ত দেইনি: চুয়েট ভিসি বিরোধিতার মাঝে ঐক্যের প্রত্যাশা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন: কক্সবাজারের ব্যবসায়ী ইয়াহিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড লিথিয়াম–আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনে যাচ্ছে ওয়ালটন ও প্রাণ–আরএফএল গ্রুপ মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধিতে নীতির টানাপোড়েন যুক্তরাষ্ট্রে ইউনূসকে ফ্যাসিস্টদের হেনস্তা ২,৪৮০ পদে নার্স ও মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু কবে চীনে সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার তৈরি হচ্ছে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নর শাসন, কত দিন চলবে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ?

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন: কক্সবাজারের ব্যবসায়ী ইয়াহিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, October 14, 2026
  • 17 Time View

আইন-আদালত ডেস্ক: জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও নিজ দখলে রাখার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় কক্সবাজারের এক ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান ইয়াহিয়াকে আদালত পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাড়ে ১২ কোটি টাকার বেশি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। রায়ে বলা হয়েছে, নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তাকে আরও এক বছর সাজা ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না, যার ফলে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এই মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘ বছর ধরে চলেছিল। মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে চট্টগ্রামের খুলশী থানায় তৎকালীন দুদকের সহকারী পরিচালক মামলাটি দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের মাঝামা সময়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার প্রক্রিয়াকালে আদালত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং অনুসন্ধান ও তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সহ মোট তেরো জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। সাক্ষীদের জবানবন্দি ও সংগৃহীত সরকারি নথিপত্রের মধ্যে পূর্ণ মিল পাওয়ায় আদালত এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।

মামলার নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অভিযুক্ত ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম নগরী ও রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিলাসবহুল ভবন, ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং পেট্রলপাম্প গড়ে তুলেছিলেন। খুলশী ও লালখান বাজার এলাকায় তার একাধিক বহুতল ভবন এবং বাণিজ্যিক স্থাপনার পেছনে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগের তথ্য উদঘাটন করে দুদক। অথচ আয়কর নথিতে এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের খুব সামান্য অংশই প্রদর্শিত হয়েছিল। দুদক তদন্তে দেখতে পায় যে, প্রদর্শিত অর্থের বাইরে প্রায় সাড়ে এগারো কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের কোনো বৈধ উৎসের হদিস মেলেনি। এছাড়া তার নামে আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিভিন্ন এলাকায় অবাণিজ্যিক ও বাণিজ্যিক জমি নিবন্ধনের তথ্যও মামলার নথিতে যুক্ত করা হয়।

দুদকের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করা আইনজীবী জানান, অভিযুক্ত ব্যবসায়ী তার বিপুল সম্পত্তির পক্ষে কোনো সন্তোষজনক বৈধ উৎস বা প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় এই সাজা প্রদান করা হয়েছে যা দুদকের দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রায়ের পর সংশ্লিষ্ট মহলে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপতার করে আদালতের সাজা কার্যকর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com