October 14, 2026, 10:47 am
সর্বশেষ সংবাদ:
৬০ বছর বয়সে এসে সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন সালমান খান সরকার আমার পক্ষে, ক্যাম্পাসে ফিরবো না এই শর্ত দেইনি: চুয়েট ভিসি বিরোধিতার মাঝে ঐক্যের প্রত্যাশা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন: কক্সবাজারের ব্যবসায়ী ইয়াহিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড লিথিয়াম–আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনে যাচ্ছে ওয়ালটন ও প্রাণ–আরএফএল গ্রুপ মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধিতে নীতির টানাপোড়েন যুক্তরাষ্ট্রে ইউনূসকে ফ্যাসিস্টদের হেনস্তা ২,৪৮০ পদে নার্স ও মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু কবে চীনে সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার তৈরি হচ্ছে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নর শাসন, কত দিন চলবে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ?

বিরোধিতার মাঝে ঐক্যের প্রত্যাশা

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, October 14, 2026
  • 14 Time View

মতামত ডেস্ক: রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক আলোচনায় সংবিধান কোনো স্থবির বা মৃত দলিল নয়, বরং সমাজের সঙ্গে এটি বিকশিত হয় এবং পরিবর্তনের পথ উন্মুক্ত রাখে। প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, সংবিধানের সংশোধনপদ্ধতি এমন হওয়া উচিত যা অতি সহজও নয় আবার অত্যন্ত অনমনীয়ও নয়, যাতে ক্ষণস্থায়ী রাজনৈতিক উত্তেজনার শিকার না হয়ে এটি স্থায়িত্ব লাভ করে। সাধারণত দুটি উপায়ে সংবিধান পরিবর্তিত হয়ে থাকে—প্রথমত বিদ্যমান কাঠামোর ভেতর থেকে সংশোধনীর মাধ্যমে এবং দ্বিতীয়ত গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান রচনা করে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে দেখা গেছে যে, যেকোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের প্রকৃত সম্মতি এবং আইনি বৈধতার প্রশ্নটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশের সাংবিধানিক যাত্রায় অতীতে বিভিন্ন সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং একপর্যায়ে জনগণের সরাসরি সমর্থনের নিশ্চয়তা হিসেবে গণভোটের বিধান যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই শর্ত তুলে দিয়ে সংসদের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে বড় পরিবর্তনগুলো সম্পন্ন করা হয়, যার ফলে জনসম্মতির প্রাচীরটি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রব্যবস্থা মেরামতের তাগিদ থেকে একটি জুলাই সনদ প্রণীত হলেও এর বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা এবং ভিন্নমতের বিষয়গুলো পুরোপুরি নিষ্পত্তি করা হয়নি। এই ঐতিহাসিক ফাঁকফোকরের কারণেই পরবর্তীতে সাংবিধানিক সংস্কার ও প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে এবং তারা বিগত দিনে ৩১ দফার রূপরেখা জনসমক্ষে উপস্থাপন করেছে। বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলটির সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে সাংবিধানিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এসব সংস্কার প্রস্তাব দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য বা চেক অ্যান্ড ব্যালান্স প্রতিষ্ঠার নীতিগত প্রশ্নেও দলগুলোর মধ্যে বড় কোনো মৌলিক বিরোধ নেই।

তবে সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন বা সংস্কারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও অর্থবহ ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি একটি কাজ। জনগণের প্রকৃত সম্মতি এবং অংশগ্রহণ ছাড়া কেবল দলগত কৌশল বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কোনো দীর্ঘমেয়াদি সাংবিধানিক সংস্কার টেকসই হতে পারে না। তাই সব পক্ষের ভিন্নমতগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে এবং একটি পরিপক্ব সমঝোতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পথ খুঁজতে হবে। সংবিধানে স্থায়ী স্থিতিশীলতা আনতে হলে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই, যা আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com