বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতা এখনো কাটেনি। অগাস্ট মাসে অন্তত দুবার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার পরেও শেষ মুহূর্তে সফরটি বাতিল হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার মাধ্যমে পাওয়া আমন্ত্রণ এবং সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেসনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারেক রহমান এখনো দিল্লি সফর করেননি। এমনকি একবার তো তার সফর ঘিরে নেওয়া আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে এসে স্থগিত করতে হয়েছিল।
এই সফর বিলম্বিত হওয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ। বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি করে আসছে এবং জানিয়েছে যে, তাকে ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত সফরের পরিবেশ তৈরি হয়নি। অন্যদিকে, ভারত মনে করছে প্রত্যর্পণের দাবিটি একটি কৌশলগত অজুহাত মাত্র। দিল্লির ভাষ্যমতে, শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে যা কিছু করছেন তার দায়ভার ভারতের ওপর বর্তায় না। তবে ঢাকা চায় ভারত অন্তত শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনুক, কারণ তার উপস্থিতি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সংবেদনশীলতার সৃষ্টি করছে।
ভারত এখন চাচ্ছে শেখ হাসিনা ইস্যুটিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিলতা থেকে আলাদা রেখে আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে। নয়াদিল্লির কর্মকর্তাদের মতে, শেখ হাসিনা যেহেতু ডিসেম্বরে দেশে ফেরার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাই সেই প্রক্রিয়াটিই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। ভারতের কাছে এখন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং ঝুলে থাকা প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু করা জরুরি। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে ভারত এখনো আশাবাদী, কারণ এটি আলোচনার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে। শেষ পর্যন্ত বল এখন ঢাকার কোর্টেই রয়েছে বলে মনে করছে সাউথ ব্লক।