October 12, 2026, 7:12 pm
সর্বশেষ সংবাদ:

নারীর ক্ষমতায়নে শুধু প্রশিক্ষণ নয়, পরিবারকেও সম্পৃক্ত করতে হবে: ববি হাজ্জাজ

Reporter Name
  • Update Time : Monday, October 12, 2026
  • 12 Time View

জাতীয় ডেস্ক: নারীর টেকসই ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য শুধু পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া বা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, যোগাযোগদক্ষতা অর্জন, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং পারিবারিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা জরুরি। সম্প্রতি রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করা হয়। হার স্কিলস হার ফিউচার শীর্ষক এই আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের শ্রমবাজারের উপযোগী পেশাগত ও জীবনমুখী দক্ষতা বাড়িয়ে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই ছিল ওই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। বক্তারা মনে করেন, এ ধরনের কর্মসূচি প্রণয়নের সময় দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের সমাজে নারীদের তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বিশেষ করে গ্রামীণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নারীদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। পরিবারকে সম্পৃক্ত করা গেলে নারীর ব্যক্তিগত সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পথ আরও সহজ হবে।

নারীর ক্ষমতায়নকে কেবল একটি সাধারণ ধারণা হিসেবে না দেখে এটিকে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট স্তরে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। ব্যক্তিগত ক্ষমতায়ন, শিক্ষাগত ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়গুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সেগুলোর সমন্বয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একজন নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি তার আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং নিজের অধিকার ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া নিজের দক্ষতা ও সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে প্রকাশ করার জন্য যোগাযোগদক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়, যা নারী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করে।

বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা রোধে পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। অনেক সময় পরিবারগুলোর নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এই বাস্তবতা দূর করতে মেয়েদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে, যাতে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অনুষ্ঠানে ইউনিসেফ ও কোইকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা নারীর অগ্রযাত্রায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com