প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত বাজারে শ্রমজীবীদের সুরক্ষায় নতুন নীতির তাগিদ
Reporter Name
Update Time :
Monday, May 11, 2026
54 Time View
প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত বাজারে শ্রমজীবীদের সুরক্ষায় নতুন নীতির তাগিদ
প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা, অটোমেশন এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শ্রমজীবী মানুষের জন্য নতুন ও সময়োপযোগী নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) আয়োজিত মে দিবস ২০২৬ স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার উৎপাদন খাতে দক্ষতা ও গতি বাড়ালেও একই সঙ্গে শ্রমিকদের জন্য নতুন ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। অনেক ক্ষেত্রে কম দক্ষ শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে এবং অনানুষ্ঠানিক খাত আরো বিস্তৃত হচ্ছে, যা সামাজিক সুরক্ষার বাইরে বড় একটি জনগোষ্ঠীকে ঝুঁকিতে ফেলছে। রবিবার (১০ মে) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণ ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিলস। অনুষ্ঠানে...
73
প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা, অটোমেশন এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শ্রমজীবী মানুষের জন্য নতুন ও সময়োপযোগী নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) আয়োজিত মে দিবস ২০২৬ স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার উৎপাদন খাতে দক্ষতা ও গতি বাড়ালেও একই সঙ্গে শ্রমিকদের জন্য নতুন ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। অনেক ক্ষেত্রে কম দক্ষ শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে এবং অনানুষ্ঠানিক খাত আরো বিস্তৃত হচ্ছে, যা সামাজিক সুরক্ষার বাইরে বড় একটি জনগোষ্ঠীকে ঝুঁকিতে ফেলছে।
রবিবার (১০ মে) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণ ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিলস।
অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক বাজার ব্যবস্থার পরিবর্তন, সরবরাহ শৃঙ্খলে অস্থিরতা এবং অটোমেশনভিত্তিক শিল্প কাঠামো বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শ্রমবাজারকেও প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ শ্রমনির্ভর শিল্পগুলোতে দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তি অভিযোজন এখন সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, শ্রমজীবী মানুষের সুরক্ষায় কেবল প্রচলিত শ্রমনীতি যথেষ্ট নয়; বরং ডিজিটাল যুগের উপযোগী নতুন শ্রমনীতি, পুনঃদক্ষতা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, এবং শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
এ ছাড়া শ্রম আইন বাস্তবায়নে জোরদার তদারকি, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার সুরক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সুফল কেবল মালিকপক্ষ বা বড় শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যবহার করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বলা হয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার, বেসরকারি খাত, শ্রমিক সংগঠন এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠস্বরকে জাতীয় নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, যথাযথ নীতি গ্রহণ না করা হলে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি শ্রমিকদের জন্য সুযোগের পাশাপাশি বৈষম্য ও বেকারত্বের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
তাই মানবিক ও ন্যায্য শ্রমবাজার গড়ে তুলতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।