October 19, 2026, 8:17 pm

প্রাথমিক শিক্ষার সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: ববি হাজ্জাজ

Reporter Name
  • Update Time : Monday, October 19, 2026
  • 12 Time View

জাতীয় ডেস্ক: দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক জাতীয় সংলাপ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় এই রূপরেখা তুলে ধরা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে ‘ফ্রম দ্য ফিল্ড টু রিফর্ম: অ্যাডভান্সিং প্রাইমারি এডুকেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী এবং মাঠপর্যায়ের নানা প্রতিনিধি অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি তার বক্তব্যে জানান, প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি—এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিতে হবে। এর মধ্যে একটি খাতকে বাদ দিয়ে পুরো ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অসম্ভব। সরকারের নীতিনির্ধারকদের পরিষ্কার নির্দেশনা রয়েছে যেন প্রতিটি শিশুর মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের পথ সুগম হয় এবং তাদের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ ও ভবিষ্যতের উপযোগী দক্ষতা গড়ে ওঠে। মাঠপর্যায়ের তিন হাজারের বেশি অংশীজনের মতামত বিশ্লেষণ করেই এই রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নতুন কারিকুলাম ও শিক্ষক নীতিমালার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৮ সালের মধ্যে পুরোপুরি শিখনফলভিত্তিক ও শিশুবান্ধব শিক্ষাক্রম চালুর প্রস্তুতি চলছে। যেখানে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের বুনিয়াদ মজবুত করার পাশাপাশি খেলনাভিত্তিক শিখন এবং ডিজিটাল কনটেন্টের ব্যবহার বাড়ানো হবে। এছাড়া শিক্ষার মান ধরে রাখতে একটি সমন্বিত শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলেছে। বিদ্যালয়ের তদারকি আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ১১ ধাপের একটি নতুন পরিদর্শন পদ্ধতি এবং ডিজিটাল ডেটা ম্যানেজমেন্ট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ যেমন পাহাড়ি বা নদীভাঙন এলাকার কথা মাথায় রেখে শিশুবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমাতে এবং শিক্ষার মান বাড়াতে অবকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা, উপযুক্ত বেতন-ভাতা এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে এবং এরই মধ্যে প্রথম অর্থবছরে ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com