পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি অভিযোগ করেছেন যে, বিগত সরকারের ত্রুটিপূর্ণ ও আমদানি-নির্ভর জ্বালানি নীতির কারণেই বর্তমানে দেশের সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের শিকার হতে হচ্ছে। শুক্রবার কুমিল্লা টাউন হলে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে, যার ফলে রাষ্ট্রকে বাড়তি ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। তবে সরকার বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে জোর দেওয়ার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ভোলার গ্যাস ব্যবহারের মতো মধ্যমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার সুফল আগামী দেড় বছরের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৫ বছর ধরে জনমতের তোয়াক্কা না করে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে, তা মূলত ছিল একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের বৈধতা তৈরির কৌশল। তিনি কুমিল্লা মহাসড়কের অব্যবস্থাপনার উদাহরণ টেনে বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে সাধারণ মানুষ আজ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক ও পরিকল্পিত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চাপ কমাতে একটি বিকল্প মহাসড়কের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, এই বিকল্প সড়কটি বাস্তবায়িত হলে কুমিল্লার উত্তরাঞ্চলসহ পুরো জেলায় কৃষি ও শিল্প ক্ষেত্রে এক নতুন বিপ্লব সূচিত হবে। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সেমিনারে মূলত টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনার ওপর আলোকপাত করা হয়।