August 20, 2026, 5:08 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার এখনো ভোট দেননি মির্জা আব্বাস, রুমিন ফারহানা ও গাজী নজরুল ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জামায়াত সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে: নুর চুরির অভিযোগে বিএনপি-আ’লীগ নেতাকর্মীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে মামলা বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ধানমন্ডি ৩২-এ হামলা: ড. ইউনূস-হাসনাতসহ ২৭ জনের নামে মামলার আবেদন খারিজ বিকেলেই মিলবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি পদে ভোট দিলেন মির্জা ফখরুল, সুযোগ নেই অলি আহমদের সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের প্রত্যাশা মির্জা ফখরুলের

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরে অত্যন্ত সম্মানজনক সংবর্ধনা দেবে দিল্লি : দীনেশ ত্রিবেদী

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, August 19, 2026
  • 39 Time View
61

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় সাক্ষাতের পর আমি সরাসরি দিল্লি গিয়েছিলাম। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চমৎকার বৈঠক হয়েছে।

ভারত নিশ্চিত করছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন ভারত সফর করবেন, তাকে অত্যন্ত সম্মানজনক সংবর্ধনা দেওয়া হবে এবং এই সম্পর্কের চূড়ান্ত সুফল দুই দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী এবং কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) সফররত প্রতিনিধিদলের সম্মানে ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, পারস্পরিক শর্তহীন বিশ্বাস ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে যাবে।

হাইকমিশনার বলেন, আমরা এমন একটি যুগে বাস করছি যেখানে প্রযুক্তির কারণে মানুষ বিশ্বব্যাপী যুক্ত হলেও ব্যক্তিগত দূরত্ব বাড়ছে।

এ বাস্তবতায় প্রতিবেশীর গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির আলোকে আমি এখানে এসেছি।

উভয় দেশের ব্যবসা ও অংশীদারত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্বপ্ন অভিন্ন। দুটি দেশেই তরুণ জনগোষ্ঠীর বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।

কোনো দেশই একা সব কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে না; এতে বেসরকারি খাতের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের চলমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এটি একটি নতুন বাংলাদেশ, যার চালিকাশক্তি তরুণ প্রজন্ম। এই তরুণদের অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগের ইতিহাস রয়েছে। একদিকে যেমন রয়েছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, অন্যদিকে ‘বিকশিত ভারত’—দুটি দর্শনের লক্ষ্যই এক। অতীতের মতপার্থক্যগুলো সমাধান করে আমাদের একযোগে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক উদ্‌বেগের বিষয়ে তিনি জানান, বিগত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশের সম্মানিত মন্ত্রীদের সঙ্গে ভারতের প্রতিনিধিরা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, প্রাণবন্ত যেকোনো গণতন্ত্রে মতপার্থক্য বা উদ্বেগ থাকা স্বাভাবিক। তবে সমতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই অংশীদারত্বে মুখোমুখি আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

বক্তৃতার শেষভাগে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের কথা উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পঙ্‌ক্তি ও বিখ্যাত সুরের উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, ‘তোমার সুর, মোদের সুর, সৃষ্টি করুক ঐকতান’—এই মধুর মেলবন্ধন ভারত ও বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি সোনালি অধ্যায় রচনা করবে।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত ভৌগোলিকভাবে প্রতিবেশী, সামাজিকভাবে যুক্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে একে অপরের পরিপূরক। তবে আমরা আমাদের দূরবর্তী অংশীদারদের সঙ্গে যতটা বাণিজ্য করি, এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে তার চেয়ে কম করি। তাই সার্বিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়াতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো দূর করা জরুরি।

ব্যবসা-বাণিজ্যে বিদ্যমান সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধা, টেস্টিং ও স্ট্যান্ডার্ড সম্পর্কিত জটিলতা, প্রক্রিয়াগত বিলম্ব এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যবসা পরিচালনায় কিছু সমস্যা রয়ে গেছে।

এ বিষয়ে ভারতের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে সিআইআই প্রতিনিধিদলকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সফরকালে অর্জিত অভিজ্ঞতা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন, যেন উভয় দেশের ব্যবসায় একটি সহজ ও টেকসই পরিবেশ তৈরি হয়।

তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া, ওষুধ, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, সিরামিক, প্লাস্টিক এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের মতো বাংলাদেশি প্রতিযোগিতামূলক পণ্যগুলো আরো বেশি পরিমাণে আমদানির জন্য ভারতীয় কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সংযোগ বাড়াতে সার্ক এবং বিমসটেকের মতো কাঠামোগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর জোর দেন শামা ওবায়েদ।

এর আগে দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তার একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সিআইআই ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জিও বক্তব্য রাখেন। এতে দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com