হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ ও অতিরিক্ত বরাদ্দের বিষয়ে জাতীয় সংসদে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিরোধী সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রকল্পের প্রায় ৯৯ শতাংশ কাজ শেষ হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ও সংকেত সংক্রান্ত কাজ অসম্পূর্ণ ছিল। প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই রাষ্ট্রীয় সম্পদ সচল করতে এবং জাইকার ঋণের কিস্তি পরিশোধের সুবিধার্থে স্বচ্ছতার সঙ্গেই নতুন করে ৯০২ কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, আগের সরকারের সময়ে তড়িঘড়ি করে অবকাঠামো নির্মাণের প্রবণতা থাকলেও টার্মিনালের কার্যক্রম সচল করার জন্য প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক অনেক কিছুই বাকি ছিল। এই বরাদ্দ না দিলে বিশাল এই অবকাঠামো অকেজো পড়ে থাকত, যা রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি বয়ে আনত। প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে যাত্রীসেবার সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হবে, যা থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব দিয়ে উন্নয়নের ব্যয়ভার বহন করা সহজতর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এছাড়া অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানের টিকিট সংকট ও আকাশচুম্বী ভাড়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, টিকিটের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়েনি, বরং কর ও অন্যান্য ফি যুক্ত হয়ে ভাড়ার কাঠামোটি এমনটি হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে কালোবাজারি করার অপচেষ্টা চলছে। এই অসাধু চক্রকে রুখতে এবং সাধারণ যাত্রীদের নির্ধারিত মূল্যে টিকিট প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।