আদালতে ঝুলে থাকা মামলার বোঝা কমাতে এবং খেলাপি ঋণ আদায়ের গতি বাড়াতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর (ADR) ব্যবস্থা ঢেলে সাজাল বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি নতুন নীতিমালা জারি করেছে, যেখানে এডিআর কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং মধ্যস্থতাকারীদের যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কোনো রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি মধ্যস্থতাকারী প্যানেলে স্থান পাবেন না।
নতুন এই নীতিমালায় এডিআর প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্তির জন্য কঠোর শর্ত পূরণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সিইও বা পরিচালকদের ঋণখেলাপি, জালিয়াতি বা মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধে জড়িত থাকার রেকর্ড থাকলে তারা অযোগ্য বলে গণ্য হবেন। এছাড়া প্যানেলে কমপক্ষে একজন আইন বিশেষজ্ঞ ও একজন হিসাববিদসহ অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের অন্তত ১০ বছরের সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক।
পুরো প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে অনলাইন ও ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রাখা হয়েছে এবং তথ্য সুরক্ষায় ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট ও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি তিন বছর অন্তর নবায়নযোগ্য এই তালিকায় ঠাঁই পেতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল্যায়নে নির্দিষ্ট স্কোর অর্জন করতে হবে। এছাড়া অনিয়ম রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত পরিদর্শনের পাশাপাশি বার্ষিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে কার্যক্রমের স্বচ্ছতা যাচাই করবে।