October 27, 2026, 8:55 am

যুদ্ধের হিসাব, জনতার রায়—নেতানিয়াহুর ভাগ্যপরীক্ষার দিন আজ

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, October 27, 2026
  • 19 Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা এবং তীব্র অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্য দিয়ে ইসরাইলে গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটির ইতিহাসে দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবারও নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে গাজা সংঘাত, হামাসের আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং ডানপন্থী ভোটারদের শক্তিশালী সমর্থনের জোরে তিনি এখনও ক্ষমতার লড়াইয়ে টিকে থাকার পূর্ণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় সময় সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ভোটাভুটিতে ১২০ আসন বিশিষ্ট পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নির্ধারণে ব্যস্ত সাধারণ জনগণ।

নির্বাচনী জনমত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের সুসম্পক্ষকে প্রধান প্রচারের হাতিয়ার বানিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন এবং ইরানের হুমকি মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপের বিষয়টিকে তিনি ভোটারদের সামনে বড় করে তুলেছেন। অন্যদিকে, আইজেনকট নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ভয় ও হুমকির রাজনীতি করার অভিযোগ এনে দেশবাসীকে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। এই নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে নেতানিয়াহুকে আবারও কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন গভির ও বেজালেল স্মোতরিচের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। যদিও তাদের উগ্রপন্থী নীতির কারণে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে এবং কিছু পশ্চিমা দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তবুও স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের প্রভাব যথেষ্ট শক্তিশালী। অন্যদিকে, বিরোধীরা বলছেন যে নেতানিয়াহুর ক্ষমতার অবসান না ঘটলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না। এছাড়া ৭ অক্টোবরের হামলার দায়ভার কার ওপর বর্তাবে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও তীব্র মতপার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে।

ইসরাইলি রাজনীতিতে দেশটির আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোটও এবারের নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এসব নাগরিকের বড় অংশ ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হলে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে কোনো দলই বিশাল ব্যবধানে জয়ী হবে না, বরং সামান্য ব্যবধানেই নির্ধারিত হবে পরবর্তী সরকার কার হাতে যাবে। যদি শেষ পর্যন্ত সংসদীয় সমীকরণ মেলানো সম্ভব না হয়, তবে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুকেই তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com