কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর নির্বাচনী ব্যানার পোড়ানোসহ একাধিক সহিংস ঘটনার প্রতিবাদে দেবীদ্বারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ (১১ দলীয় জোট)। একই সঙ্গে এসব ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় দেবীদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নিউমার্কেট মুক্তিযুদ্ধ চত্বরে গিয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ। আরো বক্তব্য দেন এনসিপি উপজেলা আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম, খেলাফত মজলিশের মাওলানা মোফাজ্জল হোসেন, পৌর জামায়াতের আমির ফেরদৌস আহমেদ, জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক নাজমুল হাসান নাহিদ, এনসিপির সার্চ কমিটির সদস্য শামিম কাউছার এবং জাতীয় ছাত্র শক্তির উপজেলা নেতা রাফসান আহমেদসহ অন্যান্য নেতারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইফুল ইসলাম শহীদ বলেন, আমরা যখন শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছি, ঠিক তখনই একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। যারা ঋণখেলাপির কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি, তারাই সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আমাদের দমাতে চাচ্ছে।
গতকাল আমাদের প্রিয় নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর ব্যানারে আগুন দেওয়া হয়েছে, এক কর্মীকে রাতের আঁধারে হামলা করে আহত করা হয়েছে এবং আজ জাফরগঞ্জে আমাদের মহিলা কর্মীদের কটাক্ষ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশন সমান মাঠের কথা বললেও আমাদের নেতাকর্মীরা বারবার হামলার শিকার হচ্ছেন। দেবীদ্বারের মানুষ হাসনাত আব্দুল্লাহকে ভালোবেসে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। যারা এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তাদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, আবার যদি ব্যানার ছেঁড়া হয় বা নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়, তবে দেবীদ্বারবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
সমাবেশে নেতারা বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর আগামী গড়ে তুলতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শাপলা কলি মার্কায় ভোট দিয়ে জনগণ এর উপযুক্ত জবাব দেবে।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের এনসিপির শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর নিজ ইউনিয়নের খাইয়ার গ্রামে সড়কের মাথায় সাঁটানো নির্বাচনী ব্যানার পোড়ানো, বরকামতায় এক এনসিপি কর্মীর ওপর হামলা এবং নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনার প্রতিবাদেই এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়।