August 26, 2026, 8:26 pm

সরকারি চাকরিতে নতুন বেতনকাঠামো: সমান থাকছে না ইনক্রিমেন্ট হার

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, July 8, 2026
  • 64 Time View

নিউজ ডেস্ক:
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির প্রচলিত নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নবম জাতীয় বেতনকাঠামোয় সব গ্রেডে সমান হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার পরিবর্তে গ্রেডভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন হার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন এই কাঠামোতে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পেতে যাচ্ছেন।

বর্তমান নিয়মে সরকারি কর্মচারীরা সব গ্রেডেই গড়ে ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পেয়ে থাকেন। তবে নতুন খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি মূল বেতনের ৫ শতাংশ বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ৫ম গ্রেডে ইনক্রিমেন্ট হার ৪ শতাংশ, ৩য় ও ৪র্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২য় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ম গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির হার আলাদাভাবে নির্ধারণ করার কথা জানানো হয়েছে।

সরকারের একটি বিস্তারিত জরিপে প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী অংশ নিয়েছেন। সেখানে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছেন। অধিকাংশ চাকরিজীবী মূল্যস্ফীতির সাথে বেতন সমন্বয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে ব্যাপক জনমত রয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতনের ব্যবধান বা অনুপাত ১:৯ দশমিক ৪ থেকে কমিয়ে ১:৭ দশমিক ৫ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া নতুন বেতন স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে এবং ভাতা ও সুবিধাদি ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে কার্যকর করা হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই নতুন বেতনকাঠামো সাজানো হচ্ছে। বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর বেতন-ভাতা ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা হলেও, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে তা প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় উন্নীত হতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলা হতে পারে। অর্থমন্ত্রীর সম্মতির পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে অর্থ মন্ত্রণালয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com